ইয়াজিদ বাহিনীর মক্কা অবরোধ ও কাবাঘরে অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ

১৩৭১ চন্দ্র বছর আগে ৬৪ হিজরির এই দিনে (২৭ মহররম) পাষণ্ড ইয়াজিদের বর্বর সেনারা হাসিন বিন নুমাইরের নেতৃত্বে (কারবালার মহাঅপরাধযজ্ঞ সম্পাদনের তিন বছর পর) পবিত্র মক্কা অবরোধ করে।

তারা মহান আল্লাহর প্রতীকী ঘর হিসেবে বিবেচিত পবিত্র কাবা

শরিফে জ্বলন্ত ন্যাপথালিনযুক্ত অগ্নি-গোলা নিক্ষেপ করে এই পবিত্র ঘর জ্বালিয়ে দেয়। ফলে মক্কার বিশিষ্ট সাহাবীদের কাছে ইয়াজিদের খোদাদ্রোহী চরিত্রের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়।

সিরিয়ার হেমস শহরের অধিবাসী হাসিন বিন নুমাইর ছিল পবিত্র কারবালায় ইয়াজিদ বাহিনীর তিরন্দাজ সেনার প্রধান। সে ছিল ইমাম হুসাইন (আ.)’র অন্যতম ঘাতক ও ইমামের প্রিয় সঙ্গী এবং অন্যতম সেনাপতি হাবিব ইবনে মাজাহের (রা.)’র হত্যাকারী। নুমাইরই প্রথম ইমাম (আ.) ও তাঁর শিবিরের দিকে তির নিক্ষেপ করেছিল। ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে ‘তাওওয়াবিন’দের সর্বশেষ যুদ্ধেও ইয়াজিদি সেনাদের নেতৃত্ব দিয়েছিল এই নুমাইর। তাওওয়াবিনদের নেতা কুফাবাসী সুলায়মান (র.) শহীদ হয়েছিলেন সেই যুদ্ধে।

(ইমাম হুসাইন-আ. এবং তাঁর সঙ্গীদের সহায়তা করতে না পারার জন্য অনুতপ্ত একদল মুসলমান কারবালার ঘটনার প্রতিশোধ নেয়ার জন্য যে আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন তার সদস্যদের বলা হত তাওওয়াবিন তথা তওবাকারীরা। এই আন্দোলনের শত শত সদস্য শাহাদতের প্রস্তুতি নিয়ে ইয়াজিদ বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি যুদ্ধে জয়ী হলেও সর্বশেষ ও চূড়ান্ত যুদ্ধে পরাজিত হয়।)

অবশেষে ৬৬ হিজরিতে আহলেবাইতপন্থী বীর যোদ্ধা মুখতার সাকাফি (র.)’র নেতৃত্বে কারবালার ঘাতকদের নির্মূল অভিযান চলাকালে এই অভিশপ্ত নুমাইর ও তার কয়েকজন সঙ্গী ‘শারিক বিন জাদির’ নামের এক বিপ্লবী মুজাহিদের হাতে জাহান্নামবাসী (নিহত) হয়।

নুমাইরের নেতৃত্বে মক্কায় ইয়াজিদি সেনাদের অভিযানের এক মাস আগে ২৮ শে জিলহজ মুসলিম বিন উকবা আল-মাররির নেতৃত্বে ইয়াজিদ সেনারা পবিত্র মদীনায় হামলা চালায় এবং সেখানে তিন দিন ধরে লুণ্ঠন ও গণ-ধর্ষণে লিপ্ত হয়েছিল। এ যুদ্ধে নিহত হয়েছিল বহু বিশিষ্ট সাহাবীসহ প্রায় সাড়ে বার হাজার মদীনাবাসী। জন্ম নিয়েছিল হাজার হাজার অবৈধ সন্তান। (বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন ভারত উপমহাদেশের বিখ্যাত আলেম মাওলানা শাহ আবদুল হক মুহাদ্দিসে দেহলাভী-র. প্রণীত ‘কারবালার পর পবিত্র মক্কা ও মদীনায় ইয়াজিদি তাণ্ডবলীলা’ শীর্ষক প্রবন্ধ)

ইয়াজিদ বাহিনী ইবনে নুমাইরের নেতৃত্বে মক্কায় হামলা চালানোর জন্য অগ্রসর হতে থাকার সময় মদীনায় অপরাধযজ্ঞ ও গণহত্যা অভিযানে নেতৃত্ব দানকারী ইয়াজিদ-সেনাদের প্রধান মুসলিম বিন উকবা আকস্মিকভাবে মৃত্যুর শিকার হয়ে জাহান্নামবাসী হয়। আবদুল্লাহ ইবনে যোবায়েরকে বন্দী বা হত্যা করাই ছিল মক্কায় ইয়াজিদ বাহিনীর হামলার লক্ষ্য। কিন্তু দেড় মাস পর মক্কা অভিযান ও পবিত্র কাবাঘরে রক্তপাতের অবসান ঘটে যখন খবর আসে যে কুখ্যাত নরপশু ইয়াজিদ মারা গেছে।

বিশ্বনবী (সা.)’র প্রিয় নাতি হযরত ইমাম হুসাইন (আ.)সহ নবী পরিবারের বহু সদস্যকে কারাবালায় শহীদ করা এবং মক্কা ও মদীনাকে বিধ্বস্ত করা ছিল খোদাবিমুখ পাষণ্ড ইয়াজিদের সাড়ে তিন বছরের শাসনামলের তিনটি বড় কুকীর্তি।
সূত্রঃ রেডিও তেহরান