ইবনে মুলজাম’এর কবর কোথায়?

ইবনে মুলজামের কবর সম্পর্কে ইবনে বাতুতা উল্লেখ করেছেন যে, যখন আমি কুফাতে যায় তখন কুফার পশ্চিম দিকে এক খন্ড মাটি দেখতে পাই যা ছিল অত্যান্ত কালো রংঙের আমি কৌতুহল বশত সেখানের লোকজনকে এর কারণ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম এবং বিষয়টি নিয়ে গবেষণা করতে লাগলাম তখন সেখানে জনগণ আমাকে বলে যে, এখানে হজরত আলি (আ.)’এর হত্যাকারি ইবনে মুলজামকে দাফন করা

হয়েছিল। কুফার লোকজন প্রত্যেক বছর উক্ত স্থানে কাঠ জমা করে এবং ৭ দিন ধরে সেখানে আগুন জ্বালায়।(নাফায়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ৪০৯, তাকওয়িমে শিয়া, পৃষ্ঠা ২৯৩)

ইবনে মুলজাম’এর অশুভ পরিণাম:

ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে হজরত আলি (আ.) তাঁর জীবনের অন্তিম সময়ে ইবনে মুলজাম সম্পর্কে তার সন্তানদের ওসিয়ত করেন। ইমাম (আ.)’এর শাহাদতের পরে যখন ইবনে মুলজামকে ইমাম হাসান (আ.)’এর সমীপে উপস্থিত করা হয় তখন তিনি তরবারির এক আঘাতে ইবনে মুলজাম’এর কেসাস করেন। আর উক্ত ঘটনাটি ২১শে রমজান ঘটে। আসওয়াদ নাখয়ি’এর কন্যা উম্মে হেয়সাম ইবনে মুলজাম’এর লাশকে নেয় এবং তা পুড়িয়ে ফেলে। (আল ইরশাদ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২২, বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ২৩২, ২৪৬, ২৯৮)

কোতাম যে ইমাম আলি (আ.)’এর হত্যা করার পরিকল্পনাকারিদের মধ্যে একজন ছিল তার পরিণতিও ইবনে মুলজাম’এর চেয়ে ভাল হয়নি। ইতিহাসে বর্ণিত হয়েছে যে, ইবনে মুলজামের হত্যার পরে জনগণ কোতাম’এর উপরে হামলা এবং তাকে তরবারি দ্বারা হত্যা করে এবং তার লাশকে কুফার বাইরে নিয়ে যেয়ে পুড়িয়ে ফেলে। (বিহারুল আনওয়ার, খন্ড ৪২, পৃষ্ঠা ২৯৮, আনওয়ারে আলাওয়িয়া, পৃষ্ঠা ৩৯০, নাফয়েহুল আলাম, পৃষ্ঠা ৪১০)

ইবনে মুলজাম’এর আযাব দেখে এক খৃষ্টান পাদ্রি মুসলমান হয়!

শেইখ রাওয়ান্দি হাসান ইবনে মোহাম্মাদ ওরফে ইবনে রেফা’এর বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, আমি একদা মসজিদুল হারামে অবস্থান করছিলাম তখন দেখলাম যে, কিছু মানুষ মাকামে ইব্রাহিমের কাছে একত্রিত হয়েছে এবং সেখানে একজন লোক বসে আছে। সেখানের উপস্থিত লোকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম যে উক্ত ব্যাক্তিটি কে? তারা আমাকে বললো যে সে হচ্ছে খৃষ্টানদের একজন পাদ্রি যে সদ্যই ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছে।

রেওয়ায়েত বর্ণনাকারী বলে যে, আমি তার নিকটবর্তি হলে দেখতে পেলাম যে, সে হচ্ছে একজন বৃদ্ধ যার পরণে ছিল পশমের আবা সে মাকামে ইব্রাহিমের কাছে বসে ছিল এবং বলছিল যে আমি হচ্ছি সাওমা পাদ্রিদের প্রধান। একদা আমি ঈগল পাখির ন্যায় একটি পাখি দেখতে পাই যে, তার ঠোট দিয়ে একজন মানুষের শরীরের অংশ সমূহকে গলনালী থেকে বের করে দিল। তখন সে একটি পরিপূর্ণ মানুষের রূপ লাভ করে। তখন আমি সে ব্যাক্তিকে জিজ্ঞাসা করলাম তুমি কে? সে আমাকে কোন উত্তর দেয় না। আমি তাকে বললাম আমি তোমাকে কসম দিচ্ছি সে স্বত্তার যে, তোমাকে সৃষ্টি করেছেন দয়া করে আমাকে বল তুমি কে?

তখন সে আমাকে বলে যে অমি হচ্ছি ইবনে মুলজামে মুরাদি। আমি তাকে জিজ্ঞাসা করলাম যে তুমি এমন কি গুনাহ করেছো যে তোমার শরীরকে উক্ত পাখিটি এমনভাবে গলনালী থেকে বের করে দেয় এবং আবার তোমার শরীরকে ঠুকরে ঠুকরে খেয়ে ফেলে?

তখন সে বলে যে আমি হজরত আলি (আ.) কে হত্যা করেছিলাম আর এ কারণে আল্লাহ আমার আযাব স্বরূপ উক্ত পাখিটিকে নির্ধারণ করেছেন সে আমাকে প্রত্যেকদিন এভাবে আয়াব দেয়।

উক্ত পাদ্রিটি বলে যে, আমি তখনও তার সাথে কথা বলছিলাম এমতাবস্থায় উক্ত পাখিটি আসে এবং তার শরীরকে টুকরা টুকরা করে নিয়ে চলে যায়। আর আমি অপেক্ষায় থাকি যে কখন আবার সেই পাখিটি মুলজামের লাশের অংশগুলোকে গলনালী থেকে বের করবে । যখন পাখিটি তার শরীরের অংশ সমূহকে গলনালী থেকে বের করে দেয় তখন আমি ইবনে মুলজামকে জিজ্ঞাসা করি যে, আলি ইবনে আবি তালিব কে? সে উত্তরে বলে: তিনি হচ্ছে রাসুল (সা.)’এর চাচাতো ভাই এবং তার স্থলাভিসিক্ত বা ওয়াসি। (মাদিনাতুল মাআজেয, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৪৪, হাদিস নং ৫৪০)

Source: TVSHIA