চারিদিকে শুধু বালু আর বালু

3 weeks ago Shakeel Ahmed 0

চারিদিকে শুধু বালু আর বালু ।
অতি উতপ্ত মরুভূমি । আশেপাশে হাজার মাইলের মধ্যে লোকবসতির সামান্যতম চিন্হ নেই । এমনকি জীব জানোয়ার চোখে পড়ে না ।
এরকম একটা জনবসতিহীন এলাকার মধ্যে মহান আল্লাহর হুকুমে হযরত ইব্রাহীম (আঃ) আল্লাহর পবিত্র ঘর বাইতুল্লাহ পুননির্মান করছেন ।
আল্লাহর হুকুম মত ইব্রাহীম (আঃ) নিবিষ্টমনে পবিত্র ঘর নির্মান করছেন বটে । কিন্ত অবচেতন মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল যে , জনবসতিহীন এই রকম একটা আবাদহীন ধুঁ ধুঁ মরুভূমির মাঝখানে আল্লাহর এই পবিত্র ঘরে কেইবা আসবে এবং এই রকম আবাদহীন মরুভূমিতে কেনইবা মহান আল্লাহ ঘর বানাতে বললেন ।
নবীমনের এই কৌতুহল আল্লাহর দৃষ্টি এড়িয়ে গেল না । আল্লাহ তো অন্তর্যামী , সকল বান্দার মনের খবর তিনি অবহিত ।
একপর্যায় মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধু ইব্রাহীম নবীকে বললেন , হে ইব্রাহীম , ঘর তুমি বানাও এবং মানুষকে আহবান কর বা আযান দাও । এক সময় দেখবে , দলে দলে মানুষ পদব্রজে ও সুন্দর সুন্দর ঘোড়া বা উটের পিঠে চড়ে এই গৃহের যিয়ারতে আসবে ।

পাঠক ,
আমি জানি না যে , ইব্রাহীম (আঃ) ওনার জীব্বদশাতে এই দৃশ্য দেখে যেতে পেরেছিলেন কিনা ?

জী পাঠক ,
বলছিলাম যে , আমাদের সকলের প্রানপ্রিয় মক্কা নগরীতে অবস্থিত পবিত্র কাবা গৃহের কথা । প্রতি বছর সকল সময় পবিত্র কাবা গৃহ বিশ্বের সকল ধর্মপ্রান মুসলমানের যিয়ারতে মুখর থাকে ।

পাঠক ,
সেই সাথে মহান আল্লাহ তাঁর প্রিয় বন্ধু ইব্রাহীম (আঃ) এর কুরবানীকে আরেকটি বিশাল বড় পবিত্র কুরবানীর সাথে বদল করেছিলেন ।

পাঠক ,
এবারে আসুন ইতিহাসের আরেক দিকে ।
ঠিক ঐরকম আরেকটি বড় প্রান্তর । চারিদিকে শুধু বালু আর বালু । অতি উতপ্ত মরুভূমি । আশেপাশে কয়েক মাইলের মধ্যে কোন জনবসতি নেই ।
বেশ কিছু দূরে একটি বড় নদী বয়ে যাচ্ছে । এরপরেও জায়গাটি জনবসতহীন অনাবাদী পরিত্যক্ত মরুভূমি ।

পাঠক ,
জায়গাটির আঞ্চলিক নাম হচ্ছে কারবালা ।
ঠিক ইব্রাহীম (আঃ) এর মত জনসতিহীন ধূঁ ধূঁ মরুভুমির ঠিক মাঝখানে মজলুম ইমাম হোসেন (আঃ) তাঁর জীবনের শেষ পদচিন্হ রাখলেন ।
ইব্রাহীম (আঃ) যেমন ওনার পরিবার ও পুত্র নিয়ে ওখানে আবাস গড়েছিলেন । ঠিক এই কারবালাতেও মজলুম ইমাম হোসেন (আঃ) তাঁর সংগী সাথী নিয়ে আবাস গড়লেন ।

এরপরের করুন নির্মম ইতিহাস সকলের জানা আছে ।
দশই মহররম পড়ন্ত বিকালে মজলুম ইমাম হোসেন (আঃ) বিশ্বের সমগ্র মানবজাতিকে আহবান করেছিলেন –
‘হাল্ মিন্ নাস্রিন ইয়ানসুরুনা ?”
অর্থাৎ – ‘আমাদের সাহায্য করার মত কি তোমাদের মাঝে একজনও নাই ?

ঠিক যেমন করে ইব্রাহীম (আঃ) পবিত্র কাবা ঘরের যিয়ারতের জন্য বিশ্বের সমগ্র মানবজাতিকে আহবান করেছিলেন ।

পাঠক ,
খেয়াল করুন , প্রতি বছর লক্ষ কোটি কোটি ভক্তকুলের যিয়ারতে কারবালা প্রান্তর মুখরিত হয়ে থাকে ।
এক সময়ের জনবসতিহীন আবাদহীন কাবা গৃহ এখন বিশ্বের সকল মুসলমানের যিয়ারতে যেমন মুখরিত থাকে ঠিক তেমনি এক সময়ের জনবসতিহীন কারবালা প্রান্তর বিশ্বের সকল মুমিনের যিয়ারতে মুখরিত থাকে ।

পার্থক্য শুধু একটাই যে , বহু মুনাফিক পবিত্র কাবা গৃহের যিয়ারতে যায় ।

কিন্ত হায় আমার কারবালা !
পাঠক ,
শুনলে আপনি অবাক হবেন যে , অপবিত্র আত্মার অধিকারী কোন মানুষ শত চেষ্টাতেও পবিত্র কারবালা যিয়ারত করতে পারে না । আজ পর্যন্ত কোন মুনফিক কারবালা যিয়ারত করতে পারে নি । মাওলার অনুমতিক্রমে বিশুদ্ব আত্মার অধিকারী শুধুমাত্র মুমিন বান্দাগন কারবালা যিয়ারত করতে পারে ।

পাঠক ,
এ প্রসংগে আরেকটি বিষয় না বললেই নয় ।
সেটা হল যে , বিশাল হস্তীবাহিনী এবং কুলাঙ্গার ঈয়াযীদের সৈন্যবাহিনী পবিত্র কাবাগৃহ ধ্বংস করতে চেয়েছিল । ধ্বংস তো করতে পারেনি , পরিনামে ওরাই পৃথিবীর বুক থেকে নিশ্চিন্হ হয়ে গিয়েছে ।
একই ভাবে উমাইয়া থেকে শুরু করে আব্বাসীয় বাদশাগন এবং সর্বশেষ ইরাকের প্রয়াত বাদশাহ সাদ্দাম সাহেবও কারবালা ধ্বংস করতে চেয়েছিল । পরিনামে কোথায় আজ তারা !

এজন্যে আল্লাহ বলেন যে , ওরা তো ফুৎকারে সত্যের শিখা নিভিয়ে দিতে চায় । কিন্ত আল্লাহ সে শিখা উজ্জীবিত রাখতে চান । যদিও সেটা কাফের মুশরিকরা কিছুতেই পছন্দ করে না ।

হায় কারবালা !
হায় আমার মজলুম ইমাম হোসেন (আঃ) ।

SKL