হযরত আদম (আঃ) এর সেই কথাগুলি কি ছিল ?

সেই বাক্যগুলো কি ছিল ?

ঈবলীশ শয়তানের প্রতারনার ফলশ্রুতিতে আদিপতা হযরত আদম (আঃ) এবং আদিমাতা হযরত হাওয়া (আঃ) আল্লাহর রোষানলে পতিত হয়ে জান্নাত থেকে পৃথিবীতে আগমন করেছিলেন ।

পৃথিবীতে আসার পরে কয়েক শত বছর অনুতপ্ত হয়ে প্রচুর ক্রন্দন করেছিলেন হযরত আদম (আঃ) । বলা হয়ে থাকে যে , পৃথিবীর বুকে কোন মানুষের সেই ক্রন্দন ছিল সর্বপ্রথম শোক ও ক্রন্দন । এবং এই ক্রন্দনকে আল্লাহ কিন্ত কখনই বেদআত বলে আখ্যায়িত করেন নি ।

যাইহোক , মূল প্রসংগে আসছি —
তখন যে সব বাক্য বা নামসমূহ ব্যবহার করে হযরত আদম (আঃ) তাওয়াসসুল বা ওসিলা ধরে দোয়া করেছিলেন এবং আল্লাহর কাছে তওবা করেছিলেন , সেই বাক্যগুলি কি ছিল ?
এ সম্পর্কে বিভিন্ন মতামত এখানে তুলে ধরা হচ্ছে —

এ সব বাক্যের উদ্দেশ্য হল সুরা আরাফের ২৩ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে ,

“—-হে আমাদের প্রতিপালক , আমরা নিজেরাই আমাদের নফসের উপর যুলুম করেছি , তুমি যদি আমাদেরকে ক্ষমা না কর ও দয়া না দেখাও নিশ্চয় আমরা ক্ষতিগ্রস্থদের মধ্যে শামিল হব—” ।

হযরত আদম (আঃ) এর এই দোয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মহান আল্লাহ ওনাকে কিছু বাক্য বা নামসমূহ শিখিয়ে দিলেন । ঐসব পবিত্র নাম সমূহের বদৌলতে আমাদের আদি পিতা মাতার প্রাথনা আল্লাহর দরবারে কবুল হয়েছিল ।

“—-অতঃপর আদম কিছু কথা তার প্রতিপালকের কাছ থেকে লাভ করল, এবং তিনি তার দিকে কোমল হয়ে ফিরলেন , নিশ্চয়ই তিনি সর্বক্ষমাশীল , সর্বমমতাময়—” ।
সুরা – বাকারা ,৩৭ নং আয়াত ।

ঐ বাক্য বা নাম সমূহের উদ্দেশ্য হল ,
হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) ,
হযরত আলী (আঃ) ,
হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) ,
হযরত হাসান (আঃ) ও
হযরত হোসেন (আঃ) ।

অর্থৎ হযরত আদম ( আঃ ) এই পাঁচ ব্যক্তিকে ওসিলা করে তওবা করেন এবং আল্লাহ ওনার তওবা কবুল করেন ।
এ ব্যাপারে সুন্নি মাযহাবের হাদিসগ্রন্থের উদ্বৃৃতি নিম্নে উল্লেখ করছি –
সূত্র – মাজমাউল বায়ান ,খন্ড -১, পৃষ্ঠা-৮৯ / আল্লামা বায়হাকি প্রনীত দালায়েল উন নবুয়ত – এহকাক উল হক ,খন্ড -৩ ,পৃ- ৭৬ / আল্লামা ইবনে আসাকের তার মোসনাদে – এহকাক উল হক , খন্ড -৩, পৃ-৭৭ / আল্লামা সুয়ুতি প্রনীত আদ দুররুল মানসুর – ইয়া নাবি উল মুয়াদ্দাহ ,পৃ-৯৭ / আল্লামা সুয়ুতি প্রনীত জামউল জাওয়ামে -এহকাক উল হক,খন্ড -৩ পৃ-৭৭ / আল্লামা কাশেফি প্রনীত মাআজে উন নবুয়ত -এহকাক উল হক ,খন্ড -৩, পৃ-৭৮ / আল্লামা কানদুযি প্রনীত ইয়া নাবি উল মুয়াদ্দাহ -এহকাক উল হক ,খন্ড -৩, পৃ-৭৬ / আল্লামা ইবনে মাগাযেলি প্রনীত মানাকেব – ঐ / আল্লামা নাতনাযি প্রনীত খাসায়েস উল আলা -ভিয়্যাহা – ঐ ।

এইরুপ বেশ কয়েকটি হাদিস থেকে একটি হাদিস উল্লেখ করছি ,
ইবনে মাগাযেলি ইবনে আব্বাসের থেকে বর্নণা করেছেন , রাসুল (সাঃ) কে প্রশ্ন করা হল যে , যে সকল কথা বা শব্দ সমূহ হযরত আদম (আঃ) আল্লাহর কাছ থেকে পেয়েছিলেন যে কথাগুলোর ওসিলায় আল্লাহ তওবা কবুল করেছিলেন সেগুলো কি ছিল ?
রাসুল (সাঃ) বললেন , আদম (আঃ) আল্লাহর কাছে মুহাম্মদ (সাঃ) , আলী (আঃ) ,ফাতিমা (আঃ) , হাসান (আঃ) ও হোসেন (আঃ) এই পাঁচ ব্যক্তিকে ওসিলা করে তওবা করেন ও মহান আল্লাহ তার তওবা কবুল করেন ।

মূলত শীয়া ও সুন্নি বিভিন্ন হাদিস গ্রন্থ থেকে এটা প্রমানিত যে , এই পাক পাজ্ঞাতনের পবিত্র নাম সমূহের বৌদলতে আল্লাহ হযরত আদম (আঃ) এর দোয়া কবুল করেছেন ।

এখানে আরেকটা ব্যাপার লক্ষনীয় যে , আমাদের আদি পিতা-মাতার প্রথম দোয়া কবুলের জন্য যেখানে ওসিলার প্রয়োজন হল সেখানে আমাদের যে কোন দোয়া বিনা ওসিলায় কিভাবে আল্লাহ কবুল করবেন ?

সুপ্রিয় পাঠকদের কাছে বিনীত নিবেদন করছি যে ,
আপনারাই সুবিবেচনা করে দেখুন যে, বিশ্ব জাহানে নবীজী (সাঃ) এর পবিত্র আহলে বাইত (আঃ) গন ব্যতীত এরুপ সম্মাান অন্য কারও ছিল কিনা ?
অন্য কোন নবী রাসুলের আহলে বাইতগনকে জান্নাতের নেত্রী ও সর্দার করা হয় নি । অন্য কোন নবী রাসুলের আহলে বাইতগনকে পুতঃপবিত্র বলে ঘোষনা করা হয় নি । অন্য কোন নবী রাসুলের আহলে বাইতগনের উপর প্রতি নামাজে দরুদ সালাম প্রেরন বাধ্যতামূলক করা হয় নি ।
ওনাদের এরুপ ফযিলত থেকে কি প্রমানিত হয় না যে , একমাত্র ওনারাই বিশ্ব জাহাানে সর্বশ্রেষ্ঠ ।

একটু লক্ষ করুন , পৃথিবীর সর্বপ্রথম পিতা , খলীফা এবং নবীর প্রথম দোয়া যাঁদের নামের বদৌলতে বা ওসিলায় কবুল হল , তাঁদের মান মর্যাদা কতোটা উপরে !
যার জন্য স্বয়ং আল্লাহ এবং সমগ্র ফেরেশতাগন ওনাদের উপর দরুদ ও সালাম প্রেরন করেন এবং আমাদেরকেও একই আদেশ দিয়েছেন ।

প্রিয় পাঠক ,
আর এই যদি সত্যি হয় , তাহলে রেসালত পদ্বতির সম্পাতির পরে আল্লাহ মহানবীর (সাঃ) ইন্তেকাল পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত ও ইমাম বা খলীফা মনোনীত করতে চান , তাহলে কি আল্লাহ ঐ আহলে বায়েত (আঃ) গন ব্যতীত অন্য কাউকে এই পদে মনোনীত করবেন বা করতে পারেন ?

আর এই পৃথিবীর মানুষ যদি অন্য কাউকে এ পদে নিযুক্ত করতে চায় তাহলেও কি মানুষের বিবেক মোতাবেক ঐসব পুতঃপবিত্র ব্যক্তিগনের উপস্থিতিতে অন্য কাউকে মনোনীত করা কি সম্ভব ?
মহানবীর (সাঃ) ওফাতের পর কি করে বনু সকীফাতে ঐ রকম জঘন্য মনোনয়ন সম্ভব !

আপনারা যথেষ্ট বিবেকবান ,
এ বিচারের ভার আপনাদের উপর রইল ।

—-বেলায়েত সম্পর্কিত আয়াতসমূহের তাফসীর ,
মূল – আয়াতুল্লাহ মাকারেম শিরাজি ,
বাংলা অনুবাদে – সামিউল হক,
পৃষ্ঠা – ১৯৭ অবলম্বনে ।

SKL