বাগ এ ফাদাক জবর দখল এর ইতিহাস —-

বাগ এ ফাদাক জবর দখল এর ইতিহাস ———–

শীয়া ও সুন্নি উভয় মাযহাবে প্রসিদ্ব ” ফাদাকের ” ঘটনা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়েছে ।

ফাদাক , নবী কন্যা ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) এর ন্যয়সংগত অধিকার এবং ওনার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে ওনার প্রতি জুলুম করা হয়েছে ।

যেমন , জালালউদ্দিন সয়ূতি (রহঃ) তার তাফসীরে দূররে মানসুর গ্রন্থে নিম্নের কোরানের আয়াতের তাফসিরে উল্লেখ করেছেন ,
” — আত্মীয় স্বজনকে তার প্রাপ্য দান কর —-” ।
সুরা বনি ইসরাইল ,২৬ ।

এ আয়াত নাজিলের পর রাসুল (সাঃ) ফাদাক নামের ভূ-খন্ডটি ওনার একমাত্র কন্যা ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) কে দান করে দেন ।

বিভিন্ন সাক্ষ্য প্রমানের ভিওিতে সমস্ত মুসলিম জাহানের কাছে সূর্যালোকের ন্যায় সুষ্পষ্ট ছিল যে , ফাদাক ফাতেমা যাহরা (সঃআঃ) এর প্রাপ্য পৈতৃক সম্পত্তি ।

এ কারনেই বনি উমাইয়ার খেলাফত কালে খলীফা ওমর বিন আব্দুল আজিজ ফাদাক ভূখন্ড ফাতেমা যাহরার (সাঃআঃ) এর প্রকৃত উওরসুরি আহলে বায়েত (আঃ) এর নিকট হস্তান্তর করেন ।

কিন্ত তারপর ফাদাক দখল করে নেওয়া হয় ।
এভাবে একের পর এক খলীফা কতৃক দখল প্রক্রিয়া খলীফা হারুন আর রশীদ পর্যন্ত অব্যাহত ছিল ।
খলীফা মামুনের সময় পুনরায় তা ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) এর সন্তানাদির কাছে হস্তান্তর করা হয় ।

অকাট্য দলিল প্রমানের ভিওি থাকার পরও রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পরপরই তৎকালীন ক্ষমতা দখলকারী প্রথম সরকার বাহাদুর সেই সম্পত্তি কেড়ে নেয় ।

আমিরুল মুমিনিন আলী (আঃ) ও উম্মে আইমান (রাঃ) এর ফাতেমা (সাঃআঃ) পক্ষে সাক্ষ্যদান করার পরেও তারা তা প্রত্যাখান করে ।
অবৈধ দখলকারিরা একটি জাল ও বানোয়াট হাদিসের অজুহাতে এই জঘন্য কাজটি করে ।

হাদিসটি হলো,
” আমরা নবী রাসুলরা মি”রাসি সম্পত্তি হিসাবে কিছুই রেখে যাই না । বরং যা অবশিষ্ট থাকবে তা সাদকা হিসেবে পরিগনিত হবে ” ।

ফাদাক জবর দখলকারিদের সৃষ্ট এই হাদিসটি কোরআনের বিধানের সাথে সুষ্পষ্ট পরিপন্থি ছিল ।
নবী কন্যা , ঐ রাজা বাহাদুরের ভরা দরবারে , ওনার প্রদত্ত খুতবাতে পবিএ কোরআনের বিভিন্ন আয়াতের মাধ্যমে এই জাল হাদিসের অসারতা সাহাবীদের সম্মুখে তুলে ধরেছেন ।
বরং এহেন পদক্ষেপ যে সম্পুন বেআইনি ও অবৈধ ছিল সেটাও ব্যাখ্যা করেছেন ।

যথা ,
১) খলীফা আবু বকর কেবল উক্ত হাদিসটি রাসুল (সাঃ) হতে বর্ননা দাবি করেছেন । এর সপক্ষে অন্য কোনও সাক্ষিও যোগাড় করেন নি । নবী নন্দিনী ফাতেমা (আঃ) স্বয়ং নিজে অত্যন্ত দৃঢ়তার সাথে এই বানোয়াট হাদিসকে প্রত্যাখান করেছেন ।

২) উপরোক্ত হাদিসটি পবিত্র কোরআনের উওরাধীকার সম্পর্কিত আয়াতের সম্পূর্ন পরিপন্থি ।

তো রাসুল (সাঃ) কতৃক কোরআনের আয়াত বা বিধান লংঘন কি আদৌ যুক্তিসংগত !! তারপর যে কন্যাকে তিনি সর্বাধিক ভালবাসতেন , তাঁকে কেন তিনি এই নতুন বিধান সম্পর্কে অবহিত করবেন না ? এটা কি ওনার পক্ষে মানায় ?

৩) ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) হচ্ছেন জান্নাতের সম্রাজ্ঞী এবং কোরআন কতৃক ঘোষিত সকল দিক থেকে পুতঃপবিত্র ।
কাজেই এটা মানা কি সম্ভব যে , তিনি অসত্য কোন দাবি তুলবেন যা , ওনার পিতার (সাঃ) হাদিসের পরিপন্থি হবে ?
কিম্বা নিছক আবেগ তাড়িত হয়ে তিনি ইমাম আলী (আঃ) এর খেলাফত বা ইমামতের পক্ষে অবস্থান নিবেন ?

৪) কোরআন হাদিসের ইতিহাসে একজন নবী রাসুলের এমন কোন তথ্য পাওয়া যায় না যে , ওনারা মি”রাসি হিসাবে কিছু রেখে যান না এবং যদি রেখেও যান তা সাদকা হিসেবে পরিগনিত হবে । বাস্তবে এমন কোন বিধান কোন ঐশী কিতাব বা সহিফাতেও পাওয়া যায় না ।

৫) এমনই ব্যক্তিত্ব যার সম্বন্ধে স্বয়ং রাসুল (সঃ) বলেছেন , ” আলী ন্যায়ের সাথে এবং ন্যায় আলীর সাথে ” ।
এটা কি সম্ভব যে , আলী (আঃ) নবীর (সাঃ) এর উক্ত হাদিসের সাথে বিরোধীতা করবেন যদি ঐ হাদিসটি সত্যই সঠিক হত !!

মহানবীর (সাঃ) এতো আপনজন হওয়া সত্বেও তিনি কি করে এত গুরুত্বপূর্ন একটা হাদিস সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল থাকবেন না !
এটা কি কোন বিবেকবান মানুষের পক্ষে মেনে নেওয়া সম্ভব !!

৬) নবীজী (সাঃ) আল্লাহর আদেশেই ফাদাক ভূ-খন্ডটি ওনারই একমাত্র কন্যা ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) কে দান করেছিলেন ।
কাজেই খলীফা বাহাদুর আবু বকর কতৃক উথ্তাপিত হাদিসের বিষয় বস্তুর সাথে ফাদাকের আদৌ বিন্দুমাত্র কোন সংশ্লিষ্টতা নেই ।

শুধুমাত্র হীন নোংরা রাজনীতির ক্ষমতার কারনে আহলে বায়েত (আঃ) গনকে অর্থনৈতিকভাবে দূর্বল করার জন্যই এই হীন অপচেষ্টা ।

পবিত্র কোরআনে এই আহলে বায়েত (আঃ) গনের প্রতি ভালবাসা , আনুগত্যের আদেশ স্বয়ং আল্লাহ দিয়েছেন ।

তো এই হল পবিত্র আহলে বায়েত (আঃ) এর প্রতি ভালবাসার সেই নমুনা !!

সুপ্রিয় পাঠক ,
আপনি যথেষ্ট বিবেকবান , সিদ্ধান্তও আপনার ,
ভাল থাকুন , ধন্যবাদ ।

—– নবী নন্দিনী হযরত ফাতেমা যাহরা (আঃ) ,
মূল – হযরত আয়াতুল্লাহ আল উযমা সাইয়েদ মোহাম্মাদ হুসাইন ফাযলুল্লাহ (রহঃ)
বাংলা অনুবাদ – মোহাম্মাদ মিজানুর রহমান ,
বইটির ১১১ , ১১২, ১১৩ পৃষ্ঠার ছায়া অবলম্বনে ।

SKL