ফাতিমা (সাঃআঃ) হযরত আবু বকরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন – এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকরের সাথে কথাবার্তাও বলেন নি ।

1 month ago Shakeel Ahmed 0

জান্নাতের সম্রাজ্ঞী কতৃক সম্পর্কচ্ছেদ —

হাদিস নং – ৬২৫৮ –
আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্নিত । একদা ফাতেমা ও আব্বাস এসে আবু বকর (রাঃ) এর কাছে রাসুল (সাঃ) এর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে তাদের উভয়ের মীরাসের দাবী তুললেন । বিশেষ করে সেদিন তাঁরা ফাদাক উপতক্যা ও তার খায়বর ভূমির হিস্যা থেকে অংশ চেয়েছিলেন । এরপর খলীফা আবু বকর বললেন , আমি রাসুল (সাঃ) থেকে শুনেছি , তিনি বলেছেন , আমরা নবীগন ! কাউকে ওয়ারীশ (উত্তরাধীকারী) বানাই না । বরং যা কিছু অবশিষ্ট রেখে যাই তা হচ্ছে সাদকা । অবশ্য মুহাম্মাদ (সাঃ) এর পরিবারবর্গ সে সম্পদ থেকে কেবলমাত্র ভোগের অধিকারী । আবু বকর বললেন , আল্লাহর কসম ! রাসুল (সাঃ) কে এ ব্যাপারে যে পদ্বতি গ্রহন করতে দেখেছি , আমিও শুধু তাই করব এবং এর ব্যতিক্রম করব না । বর্ননাকারী বলেন , ফাতিমা আবু বকরের সাথে সম্পর্কচ্ছেদ করলেন এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত আবু বকরের সাথে কথাবার্তাও বলেন নি ।
সূত্র – সহীহ আল বুখারী
৬ষ্ঠ খন্ড , হাদিস নং – ৬২৫৮ ।

অনুবাদে – মাওলানা আফলাতুন কায়সার , ফাযেলে দেওবন্দ ,
অধ্যাপক মোজাম্মেল হক , এম এম এম এ
মুহাম্মাদ মুসা এম, এম , এম , কম
অধ্যাপক এ, এম , মোঃ মোসলেম , এম, এম , এম , এ
সায়ীদ আহমেদ , এম, এম
মাওলানা সফাতুল্লাহ এম, এম , বি , এ

প্রকাশকাল – ১৯৯৯ ।

প্রকাশনায় –
আধুনিক প্রকাশনী
২৫ , শিরিশদাস লেন
বাংলাবাজার , ঢাকা – ১১০০ ।

বিশ্লেষন –
পবিত্র কোরআন থেকে প্রমানিত যে , নবী রাসুল গন তাঁদের ওয়ারীশ বা উত্তরাধীকার রেখে যান । এমনকি কোন কোন নবী ও রাসুল মহান আল্লাহর কাছে তাঁদেরকে উত্তরাধীকার দান করার জন্য প্রার্থনা করেছিলেন ।

পবিত্র কোরআন ও নির্ভেজাল হাদিস থেকে এটাও প্রমানিত যে , মহান আল্লাহ যাঁদেরকে পুতঃপবিত্র , সত্যবাদী ও আহলুল জিকির বা সর্বোচ্চ জ্ঞানী ও পবিত্র আহলে বায়েত বলে স্বীকৃতি দিয়েছেন তাঁদের মধ্যে অন্যতমা সদ্যসা হচ্ছেন ফাতেমা যাহরা (সাঃআঃ) ।

প্রশ্নটা এখানেই আসে যে ,
মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত জান্নাতের সম্রাজ্ঞী , জান্নাতের যুবকদের সর্দারের জননী কি করে তাঁর পিতার ওসিয়তের বিরুদ্বে সম্পত্তি দাবী করেন ?

তাহলে মহান আল্লাহ কি অযোগ্য ব্যক্তিকে সুরা আহযাবে পুতঃপবিত্রতার গ্যারান্টি দিলেন !
আল্লাহ কি ভুল করলেন ! (নাউযুবিল্লাহ )

মহানবী (সাঃ) তাঁর এই ওসিয়তের কথা তাঁর একমাত্র কন্যাকে কি বলে যাবেন না ! কেননা বিষয়টি একান্তই তাঁর পারিবারিক বিষয় ।

জান্নাতের সম্রাজ্ঞী যার সাথে কথা বলা বন্ধ এমনকি সম্পর্কচ্ছেদ করলেন , তিনি কি করে জান্নাতের আগাম সংবাদপ্রাপ্ত হন !

পক্ষান্তরে , প্রতিটা হাদিসের সত্যতার ব্যাপারে কমপক্ষে দুজন ঈমানদার সাক্ষ্যদাতা উপস্থিতির বিধান আছে , এটাই হাদিস বর্ননার একটা বিধান ।
এক্ষেত্রে হযরত আবু বকর স্বয়ং নিজেই এই হাদিসের বর্ননাকারী ও সাক্ষীদাতা । উনি দ্বিতীয় কোন সাক্ষী হাজির করতে পারেন নি ।

SKL