১৬৪ ধারায় আমি সহ বেশ কিছু মুসলমানগনের জবানবন্দী —

2 months ago Shakeel Ahmed 0

১৬৪ ধারায় আমি সহ বেশ কিছু মুসলমানগনের জবানবন্দী —————————–

মহান আল্লাহ সকল কিছুর একচ্ছত্র মালিক ও সৃষ্টিকর্তা । সেই মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে প্রত্যেক নবী ও রাসুলকে যাঁর যাঁর নাম সহকারে সম্বোধন করেছেন । যেমন , হে মুসা , হে নূহ , হে ইব্রাহীম ইত্যাদি ।
ব্যতিক্রম একমাত্র সমগ্র সৃষ্টিকুলের নয়নের মনি রাহমাতুল আলামীন হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর বেলায় । মহানবী (সাঃ) কে মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনের কোথাও অন্যান্য নবী রাসুলগনের মত নাম ধরে সম্বোধন করেন নি ।
যখনই মুহাম্মাদ (সাঃ) কে ডাকার প্রয়োজন হয়েছে তখনই আল্লাহ বিশেষভাবে সম্বোধন করেছেন । যেমন , ” সকল আলামীনের রহমতস্বরুপ ” ,” হে বস্র আচ্ছাদিত ” , ” হাবীব ” ইত্যাদি ।

এবং আল্লাহ আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে সরাসরি বলেছেন যে , খবরদার নবীর সম্মুখে কন্ঠস্বর উচু করে কথা বলো না , তোমাদের মধ্যে পারস্পরিক যে ভাবে ডাক সেভাবে তাকে (সাঃ) ডেকো না , ওনার (সাঃ) গৃহে প্রবেশের সময় অনুমতি গ্রহন কর , সকল সময়ই ওনাকে (সাঃ) যথাযথ সম্মান প্রদশন বাধ্যতামুলক করা হয়েছে ।

এমনকি মহান আল্লাহ স্বয়ং ওনার (সঃ) উপর সালাম ও দরুদ পাঠ করেন ।
মহান আল্লাহ আমাদেরকে আদেশ করেছেন যে , নবীজী (সাঃ) এবং ওনার আহলে বায়েত (আঃ) গনকে অবশ্যই যেন আমরা ভালবাসি ও সম্মান করি ।

তাহলে বুঝুন , মহানবী(সাঃ) এবং ওনার আহলে বায়েত (আঃ) এর মান মর্যাদা কত উচু স্তরে বিদ্যমান ।

প্রিয় পাঠক , উপরের কথাগুলো কিন্ত সবই কোরআন থেকে নেওয়া , কোন হাদিস থেকে নয় । সারসংক্ষেপে এই হল মহানবী (সাঃ) ও তার আহলে বায়েত (আঃ) এর মান মর্যাদার স্তর ।

পাঠক , এবারে আসুন ইতিহাসের আরেক দিকে দৃষ্টি দেয়া যাক —–

পবিত্র কোরআনে যেই আল্লাহ এই নবীকে এত বড় সম্মান ও মর্যাদায় ভূষিত করলেন , সেই নবী ও তাঁর আহলে বায়েতের সাথে আমাদের কৃত কিছু ব্যবহারের সংক্ষিপ্ত নমুনা উপস্থাপন করছি ।

এই আমারই মত নামধারী কিছু মুসলমান মহানবী(সাঃ) কে একাধিকবার যুদ্বক্ষেত্রে চরম বিপদের মুখে একা ফেলে রেখে পলায়ন করেছি ।

পাহাড়ের উপর থেকে বড় পাথরখন্ড ওনার উপর ছুড়ে ফেলে দিয়ে ওনাকে হত্যার চেষ্টা করেছি ।

উনি যে আল্লাহর রাসুল , এই ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে ওনারই মুখের উপর এভাবে বলেছি যে ,
” আপনি কি সত্যিই আল্লাহর নবী ” !

নবীর ওফাতের আগে ওনার নির্দেশে সরাসরি যুদ্বে না যেয়ে মদীনার সন্নিকটে অবস্থান করছিলাম যে , কখন ওনার মৃত্যুসংবাদ পাই ।

ওনার ওফাতের আগে ওনার সুস্পষ্ট নির্দেশের বিরোধিতা করে খাতা কলম তো দিলামই না উপরন্ত নবী মৃত্যু যন্ত্রনায় উম্মাদ হয়ে গেছে এই জাতীয় কথাবার্তা বলেছি ।

এরপর নবী মারা গেছে শুনেও ওনার জানাযা দাফন ইত্যাদি ফেলে রেখে বনু সকিফাতে প্রায় তিনদিন ধরে ক্ষমতার ভাগাভাগিতে মহাব্যস্ত সময় কাটিয়েছি ।

যদিও আমরা ভাল মতই জানতাম যে , মহানবী বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে হযরত আলীকে ওনার ওফাত পরবর্তী খলীফা বা নেতা বা ইমাম মনোনীত করে দিয়ে গেছেন ।

কেননা ঐ মহাসমাবেশে আমরাও উপস্থিত থেকে হযরত আলীকে মোবারকবাদও জানিয়েছিলাম ।

যাইহোক , মহানবীর মৃত্যুর পরে ক্ষমতায় আসীন হলাম । কিন্ত মহানবীর আহলে বায়েত অর্থাৎ হযরত আলী ও হযরত ফাতেমাসহ ওনাদের কিছু অনুসারী বা শীয়া কিছুতেই আমাদের বায়াত গ্রহন করছিল না ।
এর প্রেক্ষিতে আমরা নবীকন্যার গৃহে অগ্নিসংযোগ করে গৃহের দরজায় সজোরে লাথি মেরে নবীকন্যাকে মারাত্মক আহত করলাম এবং হযরত আলীকে অত্যন্ত অপমানজনক ভাবে ১ম খলীফার দরবারে টেনে হিচড়ে নিয়ে গেলাম ।
এত কিছুর পরেও ওনাদের কাছ থেকে বায়াত আদায় ব্যর্থ হয়ে নবীকন্যার বৈধ পৈত্রিক সম্পত্তি বাগে ফাদাক অবৈধভাবে বাজেয়াপ্ত করলাম ।

আমাদের দরজায় লাথির আঘাতের ফলে নবীকন্যার পাজরের হাড় ভেঙ্গে যায় । এমনকি ওনার গর্ভস্থ সন্তানও মারা যায় । এবং মারাত্মক ঐ আঘাতের ফলে নবীকন্যাও মারা যান ।

এরপরের ইতিহাস আরও দীর্ঘ ও করুন । এক পর্যায় হযরত আলীকে আমরা রমজান মাসে মসজিদের অভ্যন্তরে বিষাক্ত তলোয়ার দিয়ে হত্যা করলাম । তারপর তার ১ম সন্তান হযরত হাসানকে বিষ প্রয়োগে হত্যা করলাম । এমনকি তার জানাযার উপরও তীর মেরে রাসুলের পাশে দাফন করতেও দিই নি ।
এরপর কারবালার ইতিহাসতো সকলেই জানেন ।
মহাবীক্রমে হযরত ঈয়াযীদ (রাঃ) এর নেতৃত্বে হোসেনসহ ৭২ জনকে হত্যা করলাম ।
( পাঠক রাগ করবেন না , ডাঃ জাকির নায়েক সাহেবের নির্দেশে কুলাঙ্গার ঈয়াযীদের নামের শেষে রাঃ লিখেছি )
তারপর একে একে ধারাবাহিকভাবে মহানবীর আহলে বায়েতের মোট আটজনসহ সর্বমোট ১১ জন পুরুষকে হত্যা করেছি । এই ১১ জনকে স্বয়ং আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগতের ইমাম নির্বাচিত করেছিলেন ।

এই সকল হত্যাকান্ড কিন্ত কোন হিহুদী বা খ্রীষ্টান বা হিন্দু বা কোন অমুসলিমরা করেনি । ধারবাহিক এই জঘন্য হত্যাগুলো করেছি এই অামরা মানে নবীর সর্বশ্রেষ্ঠ উম্মত দাবিদার মুসলমানগন ।
সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হল যে , এই জঘন্য ইতিহাসগুলো স্মরন করে গুটিকতক যেই মুমিনগন কান্নাকাটি , মাতম , আযাদারী করে তাদেরকে আমরা ” শীয়া কাফের ” বলে হরহামেশা মনের সুখে ইচ্ছে মত গালাগালি করি ।

সুপ্রিয় পাঠক , আপনাদের আর ধর্য্যচূতি ঘটাবো না ।
সার সংক্ষেপে এই হল আমি সহ পৃথিবীর বেশীর ভাগ মুসলমানদের সামগ্রিক চালচিত্র ।

SKL