কাতেব এ ওহী – হযরত মূয়াবীয়া ।

কাতেব এ ওহী নামে অপপ্রচার —

যিনি বা যারা কুখ্যাত পতিতা সর্দারনী হিন্দার তথাকথিত পুত্র মুয়াবীয়াকে সাহাবীর সম্মাান দিয়েও খুশী হতে পারেন নি তারাই তার নামের আগে “কাতেব এ অহি” জুড়ে দেন ।
মক্কা বিজয়ের আরও পরে মুয়াবীয়া জান ও সম্পদ বাঁচাতে ইসলাম গ্রহন করেন । পবিত্র কোরআন এর প্রায় সব আয়াত তখন নাজিল হয়ে গেছে ।
কোরআন সম্পূর্ণ হতে তখন মাত্র আর কয়েকটি আয়াত বাকি ছিল ।
তাহলে তখন মূয়াবীয়ার পক্ষে ওহি লিখার সৌভাগ্য হল কিভাবে ?

তাছাড়া কোরআন এর কোন আয়াত মুয়াবীয়া লিখলেও তাতে কি হয়েছে ?
কেননা কোরআনের যে কোন একটি আয়াত এখন যে কেউ লিখতেই পারে । তাহলে তো লক্ষ লক্ষ কাতেব এ ওহী হয়ে যায় ।
তৎকালীন সময় কখনও কখনও মুনাফিকদের সর্দার আবদুল্লাহ ইবনে উবাইকে কে দিয়েও অহি লিখিয়েছেন বলে উল্লেখ পাওয়া যায় ।
অথচ এই উবাইকে মুনাফিক হিসেবে চিহ্নিত করে সুরা মুনাফেকুন নাজিল হয়েছে ।

মারওয়ানকেও অনেকে কাতেব এ ওহি বলে থাকেন কিন্ত তাকে তো সাহাবার মর্যাদা দেয়া হয় না ।
মুয়াবীয়ার অসংখ্য মুনাফেকি থাকা সত্ত্বেও যারা মুয়াবীয়ার সমালোচনা করলে ঈমান চলে যাবে বলে ফতোয়া দেন , তাদের আগে নিজের ঈমান কতটুকু আছে তা ভেবে দেখা উচিত ।

হযরত মূয়াবীয়ার যে কাজগুলি বিশ্লেষনের দাবী রাখে —
রাজতন্ত্র স্থাপনকারী উমাইয়া বংশের প্রথম খলীফা জনাব মুয়াবিয়া নিম্নলিখিত কাজগুলো করেন যা ইসলামের সাথে মোটেই সংগতিপূর্ন নয় –
১) –
সাহাবাকেরামদের সাথে পরামর্শ না করে ছলছাতুরী আর তরবারীর সাহায্যে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল ।
( মারেফুল কোরআন , পৃ – ৪২৭ এ হাদিস অনুযায়ী জোরপূর্বক ক্ষমতা দখলকারীকে অভিসম্পাত করা হয়েছে )

২) –
হযরত আলী (আঃ) সহ সকল আহলে বায়েত (আঃ) গনের প্রতি সকল প্রদেশের মসজিদের মিম্বর হতে অভিসম্পাত বা গালাগাল করার নির্দেশ বাধ্যতামূলক করা , যা ওমর ইবনে আবদুল আজিজ পরযন্ত বলবৎ ছিল ।

৩) –
ইমাম হাসান (আঃ) এর সাথে ক্ষমতা হস্তান্তর সংক্রান্ত চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল করা ।

৪) –
দ্বিতীয় ইমাম হাসান (আঃ) কে বিষ প্রয়োগে হত্যা করা ।

৫) –
হযরত মুহাম্মদ ইবনে আবু বকর (রাঃ) কে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যা করা ।

৬) –
উম্মু ল মুমেনীন হযরত আয়েশাকে নির্মম ভাবে হত্যা করে ওনার লাশ গুম করে ফেলা হয় ।

৭) –
রাজকীয় কায়দায় বা নিজেকে রাজা হিসেবে দাবী করে শাসন করা ।

৮) –
মদখোর , ভোগবিলাসী পুত্র ঈয়াযীদকে খলীফা হিসাবে মনোনীত করা ।

৯) –
মুসলিম বাহিনীর লাশ হতে মস্তক বিছিন্ন এবং তা শহরে প্রর্দশন চালুকরন ।

১০) –
মিথ্যা হাদিস তৈরী , প্রচারকরনের মহা ব্যবস্থাকরন ।

১১) –
হযরত হুজুর ইবনে আদী (রাঃ) ও তার সাথীদের হত্যা করা ।

১২) –
রাসুল (সাঃ) এর হাদিস “সম্মাানীত স্বামীর জন্য সন্তান এবং বেশ্যার জন্য কিছুই না ” এর বিপরীতে জিয়াদকে ভাই হিসেবে ঘোষনা প্রদান ।

১৩) –
সকল ক্ষেত্রে উমাইয়া বংশের লোকদের প্রাধান্য দেয়া । এরা সারা মুসলিম সাম্রাজ্যে পাপাচার , অসমতা , অত্যাচার ইত্যাদি ইসলাম বিরোধী কাজে লিপ্ত হয়ে পড়ে ।

১৪) –
প্রাদেশিক শাসকদের অন্যায় কাজের বিরুদ্বে ব্যবস্থা না নেয়া ।

১৫) –
দাড়িয়ে খুৎবা প্রদানের বদলে বসে খুৎবা প্রদান ।

১৬) –
ঈদের নামাজে আযান প্রথা চালু করা ।

১৭) –
রেশমী বস্ত্র পরিধান করা ।

১৮) –
নবীজী (সাঃ) এর আমলের ফেৎরা প্রথার পরির্বতন করা ।

১৯) –
বায়তুল মালকে নিজের সম্পওি হিসেবে পরিগনিত করা ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
দয়া করে ইতিহাস জানুন । এখানে শীয়া বা সুন্নি বিবেচ্য নয় । নিরপেক্ষ চোখ দিয়ে ইতিহাসকে জানার চেষ্টা করুন , আজ এই পর্যন্ত ।

SKL