অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে স্তনদান —-

অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষকে স্তনদান —-

 

এই সব ইতরামী বন্ধ হবে কবে ?

 

 

পৃথিবীতে প্রতিটি শিশুই তার মায়ের দুধ পান করবে — এটাই যৌক্তিক ও স্বাভাবিক ।

কেননা মায়ের এই একফোঁটা দুধের মাধ্যমে শিশুটি বেঁচে থাকে ।

 

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহর সরাসরি নির্দেশ আছে যে , শিশু তার মায়ের দুধ পান করবে ।

” — মায়েরা তাদের সন্তানদের দুধ পান করাবে পুরো দুই বছরের জন্য –” ।

সুরা – বাকারাহ / ২৩৩ ।

 

শিশুর অধিকার তার মায়ের দুধ পান করবে – এটা জগতের নাস্তিক আস্তিক নির্বিশেষে সকলেই মানে ।

 

পাঠক ,

এবারে আপনাদেরকে এমন একটা বিষয় দেখাব যে , আমি নিশ্চি ত যে , আপনারা স্তম্ভিত হয়ে যাবেন এবং অবশ্যই বলবেন যে , এত বিশাল জঘন্য ইতরামী কিভাবে সম্ভব !

তাও আবার ইসলাম ধর্মে এবং সহীহ সিত্তাহ হাদিস গ্রন্থের নামে বাজারজাতকরন হয়েছে ।

 

এখানে লিখতেও রুচীতে বাধছে । কিন্ত কি করব !

সকলের জানা উচিত যে , কিভাবে মহান ধর্ম ইসলামকে এবং সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) কে এবং উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশাকে পৃথিবীর সকলের সামনে কতটা নীচ ও হীন করে উপস্থাপিত কর হয়েছে ।

 

যথাসম্ভব শালীনতা বজায় রেখে বলছি যে , বলতে কি পারবেন —

একজন অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আরেকজন অপরিচিতা প্রাপ্তবয়স্কা মহিলার স্তনে নিজের মুখ লাগিয়ে শিশুদের মত চুষতে পারে !

 

এই জাতীয় জঘন্যতম অশ্লীল বিধান জগতের কোন ধর্মেই এমনকি মানব সভ্যতায় কখনই অনুমোদন দেয় না ।

একমাত্র অশ্লীল চলচ্চিত্র বা ব্লু ফ্লিমের কথা ভিন্ন ।

এই জাতীয় অশ্লীল কার্যাবলী ধর্ম বর্ন জাতি নির্বিশেষে সকলেই একবাক্যে অশ্লীল ও মহাপাপ বলে থাকে ।

 

এ প্রসংগে পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি মনে করিয়ে দিয়ে মূল প্রসংগে আসছি ।

” — মুমিন নারীদের বল তাদের দৃষ্টি নীচু করতে এবং তাদের লজ্জাস্থানসমূহ রক্ষা করতে এবং তাদের আকর্ষনগুলো প্রদর্শন না করতে , শুধু তাছাড়া যা প্রকাশ্য এবং তারা তাদের মাথার চাদর বুক পর্যন্ত টেনে দিক এবং তাদের আকর্ষনগুলো যেন প্রদর্শন না করে শুধু তাদের স্বামীদের সামনে ছাড়া —– ” ।

সুরা – নূর / ৩১ ।

 

পবিত্র কোরআন সহ পৃথিবীর যে কোন ধর্ম গ্রন্থেই একজন অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আরেকজন অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্কা মহিলার স্তনে নিজের মুখ লাগিয়ে শিশুদের মত চুষতে পারে – এরকম জঘন্য নোংরা অশ্লীল অবাধ যৌনাচারের কথা কোথাও বলা নেই ।

 

অশ্লীলতা ও চরম বেহায়াপনা নিজের চোখেই দেখুন —

উম্মুল মুমেনীন হযরত আয়েশা থেকে বর্নিত –

হযরত আয়েশা হাদীস বর্ণনা করছেন যে , সাহলাহ বিনতে সোহায়েল (আবী হোযায়ফার স্ত্রী) একদা রাসুল (সাঃ) এর কাছে এসে বলছেন যে , ইয়া রাসুল আল্লাহ ! আমি আবী হোযায়ফার মুখ দেখছি । কিন্তু ওনার বন্ধুও ওনার সাথে এসেছেন । আমি লজ্জা করছি । (কারন ঐ বন্ধুটি অপরিচিত নামাহারাম)

তখন রাসুল (সাঃ) বললেন যে , তাকে নিজের স্তন থেকে দুধ পান করাও তাহলে সে তোমার জন্য মাহরাম (পরিচিত রক্তজ আত্মীয়) হয়ে যাবে ।

সাহলাহ অবাক হয়ে বলল যে , ইয়া রাসুল আল্লাহ ! আমি তাকে কি ভাবে দুধ পান করাব ! সে তো আমার থেকে বয়সে অনেক বড় ! (অপরিচিত প্রাপ্তবয়স্ক নামাহরাম পুরুষ)
রাসুল (সাঃ) মৃদু হেসে বললেন যে , আমি জানি যে , সে তোমার থেকে বয়সে অনেক বড় ।

(নাউযুবিল্লাহ)

সূত্র – সহীহ আল মুসলিম শরিফ , হাদীস নং – ১৪৫৩ , রেজা’আতুল কাবীর অধ্যায় / সোনানে ইবনে মাজা , হাদীস নং – ১৯৪৩ , ১৯৪৪ , রেজা’আতুল কাবীর অধ্যায় ।

 

26 – (1453) حَدَّثَنَا عَمْرٌو النَّاقِدُ، وَابْنُ أَبِي عُمَرَ، قَالَا: حَدَّثَنَا سُفْيَانُ بْنُ عُيَيْنَةَ، عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ الْقَاسِمِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ: جَاءَتْ سَهْلَةُ بِنْتُ سُهَيْلٍ إِلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ، فَقَالَتْ: يَا رَسُولَ اللهِ، إِنِّي أَرَى فِي وَجْهِ أَبِي حُذَيْفَةَ مِنْ دُخُولِ سَالِمٍ وَهُوَ حَلِيفُهُ، فَقَالَ النَّبِيُّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ: «أَرْضِعِيهِ»، قَالَتْ: وَكَيْفَ أُرْضِعُهُ؟ وَهُوَ رَجُلٌ كَبِيرٌ، فَتَبَسَّمَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَقَالَ: «قَدْ عَلِمْتُ أَنَّهُ رَجُلٌ كَبِيرٌ»، زَادَ عَمْرٌو فِي حَدِيثِهِ: وَكَانَ قَدْ شَهِدَ بَدْرًا، وَفِي رِوَايَةِ ابْنِ أَبِي عُمَرَ: فَضَحِكَ رَسُولُ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

 

صحيح مسلم ج2 ص1076 المؤلف: مسلم بن الحجاج أبو الحسن القشيري النيسابوري (المتوفى: 261هـ)، المحقق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء التراث العربي – بيروت، عدد الأجزاء:5

 

سنن ابن ماجه ج 1 ص625 المؤلف: ابن ماجة أبو عبد الله محمد بن يزيد القزويني، وماجة اسم أبيه يزيد (المتوفى: 273هـ)، تحقيق: محمد فؤاد عبد الباقي، الناشر: دار إحياء الكتب العربية – فيصل عيسى البابي الحلبي،عدد الأجزاء: 2

 

 

প্রিয় পাঠক ,

ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেখুন যে , কত বড় জঘন্য কুৎসিত নোংরা হাদিস লিপিবব্দ করা হয়েছে ।

স্বামীর অপরিচিত একজন বন্ধুকে স্ত্রী তার নিজের স্তন পান করালে স্বামীর অপরিচিত বন্ধুটি ঐ মহিলার মাহরাম অর্থাৎ রক্তজ আত্মীয় সমপর্যায় হয়ে যাবে !

আসলেই সহীহ সিত্তাহ হাদিসের অর্ন্তভুক্ত এই জাতীয় অশ্লীল হাদিসের বিষয় মন্তব্য করতেও রুচীতে বাঁধে !

 

শেষ পর্যন্ত আল্লাহকেও জাহান্নামী বানিয়ে দিল !

অবশ্য বনু সকীফার ইসলামে সবই সম্ভব !

 

সহীহ আল বুখারীতে স্থান পাওয়া সহীহ হাদিস এই ক্ষেত্রেই আল্লাহকে কে চরমতম বিতর্কিত ও হীন করে দেয় ।

অন্যান্য ধর্মালম্বী ব্যক্তিগন এই জাতীয় হাদিসগুলোকে আমাদের সামনে উপস্থাপন করে আল্লাহকে নিয়ে বড়ই ঠাট্টা উপহাস করে থাকেন । তখন আমাদের ফ্যাঁল ফ্যাঁল করে তাকিয়ে থাকতে হয় ।

 

খুব জানতে ইচ্ছে করে তখন —

সর্বশ্রেষ্ঠ মহামনাব হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) সম্বন্ধে সহীহ , বিশুদ্ব ও নির্ভেজাল কিতাবে এই জাতীয় জঘন্য নোংরা কুরুচীপূর্ন হাদিস সমূহ কিভাবে স্থান পায় ?

 

মহানবী (সাঃ) এর শানে এই জাতীয় বেয়াদবীপূর্ন হাদিস যারা লিপিবদ্ব করলেন তাদের অবস্থান কোথায় হওয়া উচিৎ ?

 

অবাক করা বিষয় এটাই যে , আজ পর্যন্ত পৃথিবীর সকল সম্মাানীয় সুন্নি আলেমগন একত্রিত হয়ে এই জাতীয় জঘন্য করুচীপূর্ন নোংরা ও অশ্লীল হাদিসগুলো বাতিল বলে যৌথ ঘোষনা করছেন না !

আফসোস !

এ পর্যন্ত সম্মাানীয় কোন সুন্নি আলেমগনের নিকট থেকে যৌক্তিক কোন জবাব পেলাম না !

আক্ষেপ নিয়ে বলতেই হয় যে , বনু সকীফার ইসলামে অসম্ভব বলে কিছুই নেই !

SKL