মহানবী হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) কখনই কোন দাইয়ের দুধ পান করেননি —

— মহানবী হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) কখনই কোন দাইয়ের দুধ পান করেননি ——–

রাসুল (সাঃ) এর পিতার নাম হযরত আবদুল্লাহ (আঃ) এবং মাতার নাম বিবি আমেনা (সাঃআঃ) ।
আল্লাহর বিধান অনুযায়ী ও আমাদের বিশ্বাস মতে হযরত হাওয়া (সাঃআঃ) থেকে বিবি আমেনা (সাঃআঃ) পর্যন্ত কেউই মুশরিক বা কাফের ছিলেন না ।
প্রচলিত ইসলামের ইতিহাসে বলা হয়ে থাকে যে , হালিমা নামক এক বেদুইন মহিলার দুধ পান করে রাসুল (সাঃ) লালিত পালিত হয়েছেন ।

আল্লাহ কোন নবী রাসুলকেই দাইয়ের বা কোন মুশরিক মহিলার দুধ পান করান নি । সেখানে শ্রেষ্ঠ নবীকে (সাঃ) কেন তিনি দাইয়ের বা কোন মুশরিকের দুধ পান করাবেন !

এটা নবীজী(সাঃ) তথা ইসলামের শত্রুদের দ্বারা রচনা করা ভ্রান্ত ইতিহাস । এবং এটা কোরআনের সাথেও সম্পূন পরিপন্থী ।
কারন হযরত মুসা (আঃ) কে আল্লাহ অন্য কোন দাইয়ের দুধ পান করতে দেন নি । সুরা কাসাস – ১২ দ্রষ্ট্রব্য ।
সেখানে সৈয়দুল মুরছালিন শ্রেষ্ঠ নবী (সাঃ) কে কি করে দাইয়ের দুধ পান করাবেন ?

এছাড়াও পবিত্র কোরআনে পরিষ্কার বলা আছে , দুই বৎসর পর্যন্ত শিশু তার মায়ের দুধ পান করবে ।
এবং মা আমেনা (সাঃআঃ) সুস্থ্য শরীরে নবীজীর (সাঃ) ছয় বৎসর পর্যন্ত বেঁচে ছিলেন । সেখানে কোন দুঃখে আমাদের নবীজী (সাঃ) অসুস্থ দাই মা হালিমার ঘরে গেলেন ।
যেখানে ঐতিহাসিকগনের মতে বিবি হালিমা একজন জন্মগতভাবে বিকলাঙ্গ মহিলা ছিলেন ।

নবীজীর (সাঃ) মা বিবি আমেনা (সাঃআঃ) রাসুল (সাঃ) এর জন্মের পরেও ছয় বছর পর্যন্ত সুস্থভাবে জীবিত ছিলেন এবং কোরআনের সিদান্ত অনুযায়ী দুই বছর পর্যন্ত শিশু তার মায়ের দুধ পান করবে ।
ইতিহাস সাক্ষ্য দেয় যে , হালিমার গৃহে লালন পালনের জন্য রাসুল (সাঃ) যখন প্রেরন করা হয় তখন রাসুল (সাঃ) বয়স ছিল ছয় বৎসর ।
সংগত কারনেই প্রশ্ন ওঠে যে , পবিত্র কোরআনের বিধান অনুযায়ী দুই বছরের উপরে শিশুর জন্য মাতৃদুধ পান জায়েজ নয় । সেখানে ছয় বছরের বালক মুহাম্মাাদ (সাঃ) পবিত্র কোরআনের বিধান লংঘন করে কিভাবে মা হালিমার দুধ পান করতে পারে ?
নবীজী ( সাঃ) এর বেলায় এই কেচ্ছা কাহিনী পুরোপুরিভাবেই ওনার মান সম্মাান এবং কোরআনের বিধানের সাথেও সংগতিপূর্ন নয় ।

ঐতিহাসিকগন বলেন যে , সে সময় দাইয়ের দুধ খাওয়ানাটা আরবের প্রচলিত প্রথা ছিল । যদি তাই হয়ে থাকে তবে হযরত আব্বাস (আঃ) , হযরত হামজা (রাঃ) , হযরত জাফর (রাঃ) , হযরত আবু তালেব (আঃ) , হযরত আবদুল মোতালেব (আঃ) সহ আরও নামকরা ব্যক্তিদের বেলায় এই রকম দাইয়ের দুধ খাওয়ানোর ইতিহাস শোনা যায় না কেন ?

তারা যদি বলেন সেটা নবীর আমলের আগের ঘটনা ।
তবে নবীর পরে যেমন হযরত আলী (আঃ) , ইমাম হাসান (আঃ) , ইমাম হোসেন (আঃ) সহ অন্যদের বেলায় এই সব কেচ্ছা কাহিনী জানা যায় না কেন ?

তাছাড়া ছয় বছর পর্যন্ত রাসুল (সাঃ) এর মাতা সুস্থ শরীরে বেঁচে ছিলেন । তারপর ওনার মাতার ইন্তেকালের পর ওনারই চাচা আবু তালেব (আঃ) এবং চাচি ফাতেমা বিনতে আসাদ (সাঃআঃ) এর অপার স্নেহ মমতায় উনি পরম আদরে লালিত পালিত হয়েছেন ।

তো এখানে দাই মা এর এই গল্পের কোন যৌক্তিক কারন বোধগম্য নয় ।
এগুলো সবই ওনার মান সম্মাানকে খাটো করার হীন প্রয়াস থেকে ওনারই শত্রুদের রচনা করা মিথ্যা ইতিহাস ।

—-শেষ নবী হযরত মোহাম্মাাদ (সাঃ) ও ইসলামের ইতিহাস —
লেখক – ডঃ এস, এম, ইলিয়াস —
পৃষ্ঠা – ২১ -২২ থেকে ।

SKL