পবিত্র কোরআনে ইমাম আলী (আঃ) এর নাম কেন সরাসরি আসেনি ?

পবিত্র কোরআনে ইমাম আলী (আঃ) এর নাম কেন সরাসরি আসেনি ?

উত্তর –
আলী – নামটি শুধুমাত্র ওনার একমাত্র নাম ছিল না ।
অনুরুপভাবে আবু তালিব নামটিও ওনার পিতার একমাত্র নাম ছিল না ।
বরং তৎকালীন সময় আরববাসীদের অনেকেরই এরুপ নাম ও উপাধি ছিল । এবং সেজন্যেই পবিত্র কোরআনে আলীর (আঃ) নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় নি ।
মহানবী (সাঃ) একাধিকবার বহু জায়গায় হযরত আলীকে (আঃ) অত্যন্ত সুস্ষ্টভাবে ওনার স্থলাভিষিক্ত বা ইমাম বা নেতা বা খলীফা হিসাবে ঘোষনা করেছেন ।
এমনকি স্বয়ং আল্লাহ হযরত আলী (আঃ) এর বেলায়েতের ঘোষনা করিয়েছেন গাদীর এ খুম নামক স্থানে ।

“—- হে রাসুল , আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার প্রতি যা অবতীণ হয়েছে তা পরিপূনরুপে মানুষের কাছে পৌছে দিন । যদি আপনি এরুপ না করেন , তবে আপনি তার দেয়া নবুয়তি দায়িত্ব কিছুই পালন করলেন না । আল্লাহতায়ালা আপনাকে মানুষের কাছ থেকে রক্ষা করবেন । নিশ্চয়ই আল্লাহ কাফের সম্প্রদায়কে পথ প্রদশন করেন না —-” সুরা মায়েদা ,আয়া্‌ত,৬৭ ।

যদি কোরআনে আলী (আঃ) এর নাম সরাসরি উল্লেখ থাকত তাহলে অন্যরা যারা এমন দিবালোকের মতো সত্য বিষয়কে অস্বীকার করার মানসিকতা রাখত , তারা তখন বিপুল উদ্দ্যমে প্রচার করত , যে আল্লাহ সে আয়াতে আলী বলতে অন্য কাউকে বুঝিয়েছেন ।
এ কারনে উত্তম এটাই যে , ওনার নাম উল্লেখ না করে ওনার বিভিন্ন গুন , ফজিলত ও বৈশিষ্ট উল্লেখ করা যাতে অন্য কেউ অযৌক্তিকভাবে সেই দাবি করতে না পারে ।

তাই আল্লাহ পবিত্র কোরআনে এই পন্থা অবলম্বন করেছেন এবং বিভিন্ন আয়াতে আলীর (আঃ) গুন বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে ওনাকে সমগ্র মুসলিম জাহানের উলিল আমর , নেতা , ওলী এবং একই সাথে রাসুলের (সাঃ) স্থলাভিষিক্ত বা খলীফা হিসেবে অভিহিত করেছেন ।

আল্লাহ ও রাসুলের (সাঃ) এই ঘোষনা বা আদেশের ব্যাপারে যাদের অন্তরে রোগ ব্যাধি বা অসুস্থতা রয়েছে তারা এসব আয়াতকে নিজস্ব মনগড়া তাফসীর বা ব্যাখ্যা করেই যাবে ।
এবং এই প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে মহানবী ( সাঃ) এর ওফাত পরবতী বনু সকিফা থেকে ।

—-বেলায়েত সম্পকিত আয়াতসমূহের তাফসীর —
অনুবাদ – সামিউল হক, পৃষ্ঠা ২৪৫ ,
অবলম্বনে ।

SKL