নীতিমালা বা কলেমা সমাচার —

নীতিমালা বা কলেমা সমাচার —–

প্রত্যেক নবী রাসুলগনের উম্মতগনের জন্য অপরিবর্তনীয় সুনির্দিষ্ট একটি বিধান বা নীতিমালা ছিল এইরুপ যে , ঐ সকল উম্মতগনের অবশ্যই তার যুগের নবী রাসুলগনের প্রতি পুরোপুরি বিশ্বাস থাকতে হবে । এবং প্রত্যেক উম্মতের জন্য বাধ্যতামূলক আইন এটাই যে , সকল নবী রাসুলগনের প্রতি নিঃশর্ত অনুসরন ও আনুগত্য করা বাধ্যতামূলক ।

উদাহরনস্বরুপ ,
হযরত আদম (আঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ আদম সাফিউল্লাহ ,

হযরত মুসা (অাঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ মুসা কলিমউল্লাহ ,

হযরত নূহ (অাঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ নূহ নাজিউল্লাহ ,

হযরত ইবরাহীম (অাঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইবরাহীম খলিলউল্লাহ ,

হযরত ইসমাঈল (অাঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ইসমাঈল জাবিউল্লাহ ,

হযরত ঈসা (অাঃ) এর জামানায় তাঁর উম্মতগনের কলেমা ছিল এইরুপ যে ,
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ ঈসা রুহুউল্লাহ ,–

এই ধারাবাহিকতায় আমাদের সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর জামানা থেকে রোজ কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মুসলিম উম্মাাহর জন্য এই কলেমা বিদ্যমান যে –
— লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাাদুর রাসুল্লল্লাহ ।

মোটকথা , এই নীতিমালা বা কলেমার প্রতি পরিপূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপনের সর্বপ্রথম প্লাটফরমের নাম হল মুসলমান ।
এবং এই নীতিমালা বা কলেমা হল সকল উম্মতগনের জন্য প্রযোজ্য ।

পাঠক ,
এবারে একটু অন্যদিকে চলুন –
আমি বলতে চাচ্ছি যে , আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত ঈসা (অাঃ) পর্যন্ত উম্মতগনের কলেমা জানা গেল । এমনকি সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর উম্মতগনের কলেমা জানা গেল ।

কিন্ত কেউ কি বলতে পারবেন ———-
স্বয়ং হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত ঈসা (অাঃ) পর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরগনের নিজস্ব কলেমা কি ছিল ?
কারন প্রধান নীতিমালা বা কলেমা ব্যতীত মুসলমান হওয়া সম্ভব নয় । সে বিবেচনায় অতি অবশ্যই নবী রাসুলগনেরও একটা নীতিমালা বা কলেমা থাকা বাঞ্চনীয় ।

আসুন – জেনে নেওয়া যাক –

হযরত আদম (আঃ) থেকে শুরু করে হযরত ঈসা (অাঃ) পর্যন্ত এক লক্ষ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরগনের জন্য বাধ্যতামূলক বিধান হচ্ছে যে –
হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর রেসালতের প্রতি নিঃশর্ত ভালবাসা , বিশ্বাস স্থাপন এবং তাঁকে সর্বতোভাবে সাহায্য সহযোগিতা করা – এই শপথ বাক্য ও ওয়াদা স্বয়ং আল্লাহ ওঁনাদের নিকট থেকে আদায় করেছেন এবং ওঁনাদেরকে হুশিয়ার ও সাবধান করে দিয়েছেন এই মর্মে যে , যদি কেউ এই শপথ বাক্যের প্রতি বিন্দুমাত্র অবিশ্বাস বা অবহেলা করে তবে তার নবুয়ত ও রেসালত বাতিল তো হবেই এবং সে ফাসেকের অন্তর্ভুক্ত হবে ।

এই বিধান মতে সমস্ত পয়গম্বরগনের নিজস্ব পরিপূর্ন কলেমা বা নীতিমালা ছিল এটি যে –
—- লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাাদুর রাসুল্লল্লাহ আলীউন অলীউল্লাহ ।

পাঠক ,
বিস্তারিত ব্যাখ্যা ফেসবুকের স্বল্প পরিসরে দেয়া অসম্ভব বিধায় এই কথাগুলোর স্বপক্ষে পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াত দিয়ে আপাঃতত বিদায় —

মহানবী (সাঃ) এর রেসালতের কলেমা —
” — যখন আল্লাহ একটি অঙ্গীকার নিলেন সকল নবীদের বিষয় , ” যতটুকু আমি তোমাদের দিয়েছি কিতাব ও প্রজ্ঞা থেকে , এরপর যদি তোমাদের কাছে কোন রাসুল আসে সত্যায়িত করে যা তোমাদের সাথে আছে , তোমরা তাকে বিশ্বাস করবে এবং সাহায্য করবে ” । তিনি বললেন , ” তোমরা কি এই শপথ করেছ এবং আমার এই চুক্তি এ শর্তে গ্রহন করেছ ? ” তারা বলল ,
” আমরা শপথ করছি ” । তিনি বললেন , ” তাহলে সাক্ষী থাক (তোমরা) এবং আমিও তোমাদের সাথে সাক্ষীদের দলভুক্ত রইলাম । এরপর যে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেবে – তারাই হল যারা ফাসেক (সীমালংঘনকারী) —– । ”
সুরা – আলে ইমরান / ৮১ , ৮২ ।

আলী (আঃ) এর ইমামতের কলেমা —
” — হে রাসুল , পৌঁছে দাও যা তোমার কাছে অবতীর্ন হয়েছে তোমার প্রভুর কাছ থেকে , এবং যদি তুমি তা প্রচার না কর , তুমি তার রেসালতই পৌঁছে দাও নি —– ” ।
সুরা – মাইদাহ / ৬৭ ।

সর্বশেষ নবী ও রাসুল হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর নবুয়ত ও রেসালতের প্রতি পরিপূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস এবং হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) এর ইমামত ও বেলায়েতের প্রতি পরিপূর্ন আস্থা ও বিশ্বাস – এই দুই নীতিমালার প্রতি পরিপূর্ন বিশ্বাস ও আস্থা স্থাপনই হচ্ছে একজন প্রকৃত ঈমানদার মুমিনের সঠিক পরিচয় ।

SKL