ঈবলীশ পারিল চিনিতে – পারিলাম না শুধু আমরা —

ঈবলীশ পারিল চিনিতে – পারিলাম না শুধু আমরা —-

মহান আল্লাহর দরবারে ঘটনাটি ঘটেছিল ।
মহান আল্লাহর আদেশ মোতাবেক সকল ফেরেশতাগন সদ্য তৈরীকৃত হযরত আদম (আঃ) কে সেজদা করে সম্মাান জানালেন । শুধু লানতি ঈবলীশ সেজদা করল না ।

এক্ষেত্রে আল্লাহ কতৃক তলবকৃত কৈফিয়তের জবাবে ঈবলীশের উক্তি ছিল এরুপ যে , হযরত আদম (আঃ) কে শুকনো ঠনঠনে এঁটো কাঁদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করা হয়েছে ।
আগুন অবশ্যই মাটি থেকে বহুগুনে উত্তম বিধায় আগুনের তৈরী ঈবলীশ মাটি দ্বারা তৈরীকৃত আদম (আঃ) কে কিছুতেই নত স্বীকার করে সেজদা করতে পারে না ।

মহান আল্লাহর সরাসরি হুকুম পালনের বিরোধিতা করায় ঈবলীশের যাবতীয় মান মর্যাদা , ইবাদত বন্দেগী বাতিল তো হলই এবং সেইসাথে আল্লাহর দরবার থেকে চিরস্থায়ী ভাবে বহিস্কার হল ।
বহিস্কার হয় ঈবলীশ আল্লাহর কাছে কতগুলি নিবেদন করেছিল । আল্লাহ অবশ্য সে নিবেদনগুলি মজ্ঞুর করেছিলেন ।

হযরত আদম (আঃ) এর প্রতি প্রচন্ড প্রতিশোধপরায়ন হয় ঈবলীশ তখন আল্লাহর কাছে একটি প্রতিজ্ঞা করেছিল । সেটি হল –

” — সে বলল , হে আমার প্রতিপালক ! যেহেতু তুমি আমাকে বিতাড়িত করেছ । আমিও তাদের (আদমের সন্তানদের) জন্য পৃথিবীতে সাজ-সরজ্ঞামগুলো সুশোভিত করে তুলব এবং অতি অবশ্যই তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করবই । কিন্ত তাদের মধ্যে তোমার মনোনীত পরিশুদ্ব বান্দাগন ব্যতীত —- ” ।
সুরা – হিজর / ৩৯ ।

প্রিয় পাঠক ,
কিছুটা মনযোগ চাইছি –
খেয়াল করুন , মহান আল্লাহর সম্মুখে ঈবলীশ দম্ভভরে চ্যালেজ্ঞ করছে যে , আদম (আঃ) এর বংশধরগনকে সে পথভ্রষ্ট করবেই করবে । পথভ্রষ্ট করবার জন্য জগতের সকল নিকৃষ্ট উপাদানগুলো আদম (আঃ) এর সন্তানগনের সম্মুখে খুব মনমুগ্বকর , লোভনীয় ও শোভনীয় হিসেবে তুলে ধরবে । যাতে করবে পৃথিবীর প্রায় সকল মানুষ মন্দ কাজের প্রতি সহজেই আকৃষ্ট হয়ে পড়ে । এবং বর্তমানে পৃথিবীতে মানুষের কাজকর্মে ঈবলীশের কৃত প্রতীজ্ঞার বাস্তবায়ন যে পুরোপুরি ভাবে সফল সেটা বলাই বাহুল্য ।

পাঠক ,
এখন খেয়াল করুন – ঈবলীশের প্রতীজ্ঞার শেষ কথাটি –

” — অতি অবশ্যই তাদের সকলকে পথভ্রষ্ট করবই । কিন্ত তাদের মধ্যে তোমার মনোনীত পরিশুদ্ব বান্দাগন ব্যতীত —- ” ।

তখনও কিন্ত হযরত আদম (আঃ) সম্পূর্ন একা । সবে সৃষ্টি হয়েছেন । পৃথিবীতে তখনও পদার্পন করেন নি । বংশধর হওয়া তো বহু দূরের কথা ।

” — কিন্ত তাদের মধ্যে তোমার মনোনীত পরিশুদ্ব বান্দাগন ব্যতীত —- ” ।

আল্লাহ কতৃক মনোনীত নির্বাচিত বান্দাগনকে ঈবলীশ তখনই দেখেছিল ও চিনেছিল । সেইসাথে ঈবলীশ উত্তমরুপেই জানত যে , ওঁনাদেরকে কখনই পথভ্রষ্ট করতে পারবে না । সেজন্যেই ঈবলীশের সরল স্বীকোরক্তি যে , ওঁনাদেরকে ব্যতীত অন্য সকলকে পথভ্রষ্ট করার ব্যাপারে ঈবলীশ বেশ নিশ্চিত ছিল ।

মনোনীত , নির্বাচিত , পরিশুদ্ব , পুতঃপবিত্র বান্দাগনকেই মহান আল্লাহ সুরা ফাতেহাতে “সীরাতুল মুস্তাকীম” ও সুরা আহযাবে “পুতঃপবিত্র” বলে ঘোষনা দিয়েছেন ।

পাঠক ,
সবথেকে দুঃখের কথা এটাই যে , সৃষ্টির সূচনালগ্ন থেকেই পুতঃপবিত্র পরিশুদ্ব মনোনীত ও নির্বাচিত –
“১৪ জন মাসুমীন (আঃ) ” গনকে ঈবলীশ ঠিকই চিনতে পেরেছিল ।

পক্ষান্তরে ,
বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে লক্ষাধিক হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাগনের সম্মুখে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার পরেও পৃথিবীর শতকরা সত্তরভাগ মুসলমান মহান আল্লাহ কতৃক মনোনীত নির্বচিত পরিশুদ্ব বান্দাগনকে আজ অবধি চিনতে পারল না !!

বড় দুঃখেই এই কথাটি বলে আজকের মত বিদায় —

হায়রে মুসলমান !
মহানবী (সাঃ) স্বয়ং নিজে যাদেরকে নিজগৃহ থেকে বিতাড়িত করলেন তাদেরকেই বড় আপন করে বুকে টেনে নিলে !
আর মহানবী (সাঃ) যাঁদেরকে নিজের বুকে টেনে নিলেন তাঁদেরকেই বড় অবজ্ঞাভরে পরিত্যাগ করলে !!

বোধকরি আমার মত গর্দভ উম্মতের জন্য মহান আল্লাহ এই আয়াতটি অবর্তীন করেছেন —

” — তোমাদের কি হয়েছে , তোমরা কেমন বিচার করছ ? তবে কি তোমরা চিন্তা ভাবনা কর না — ” ?
সুরা – সাফফাত / ১৫৪ , ১৫৫ ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
কিছুই বলিবার নাই ।
যদি সময় পান , দয়া করে একটু ভেবে দেখবেন ।

SKL