ইমামত পদ্বতি সমাচার –

ইমামত পদ্বতি সমাচার —

” — সেদিন আমরা মানবজাতির প্রত্যেক দলকে আহবান করব তাদের ইমামসহ — ” ।
সুরা – বনী ঈসরাইল / ৭১ ।

উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের আয়াতের সাথে সম্পর্কিত রাসুল (সাঃ) এর হাদিস –
” — যে ব্যক্তি তার নিজের যুগের ইমামের মারেফাত ব্যতীত মৃত্যুবরন করল , সে জাহেলিয়াতের মৃত্যুবরন করল — ” ।
সূত্র – সহীহ মুসলিম , খন্ড – ৩ , হাদিস নং – ১৮৫১ (লেবানন) / কানজুল উম্মাাল , খন্ড – ১ , পৃ- ১০৩ / ইয়ানাবিউল মুয়াদ্দাত , পৃ- ১৮৯ (উর্দ্দু) / মাজমা আজ জাওয়াদ , খন্ড – ৫ , পৃ- ২১৮ / তাফসীরে ইবনে কাসির , খন্ড – ১ , পৃ- ৫১৭ (মিশর) / আস সুনান আল কুবরা , খন্ড – ৮ , পৃ- ১৫৬ / আল মুসনাদ , খন্ড – ৪ , পৃ- ৯৬ (মিশর) / সহীহ মুসলিম , খন্ড – ৬ , পৃ- ২২ (মিশর) / জাওয়াহির আল মুদিয়া , খন্ড – ২ , পৃ- ৪৫৭ / শারাহ আল মাকাসিদ , খন্ড – ২ , পৃ- ২৭৫ / হিলিয়াতুল আউলিয়া , খন্ড – ৩ , পৃ- ২২৪ / সহীহ মুসলিম , খন্ড – ২ , পৃ- ১২৮ / মুসনাদে হাম্বল , খন্ড – ৪ , পৃ- ৯৬ ।

প্রিয় পাঠক ,
উপরে উল্লেখিত পবিত্র কোরআনের আয়াত ও রাসুল (সাঃ) এর হাদিস দ্বারা একটি বিষয় প্রমানিত যে , রেসালত পদ্বতির সম্পাতির পর থেকে কেয়ামত পর্যন্ত ইমামত পদ্বতির মাধ্যমে মহান আল্লাহ সমগ্র সৃষ্টিজগত পরিচালনা করছেন ।
কেয়ামতের দিন মহান আল্লাহ প্রত্যেক বান্দাকে তার ইমাম বা নেতা সহ আহবান করবেন ।
পবিত্র কোরআন দ্বারা এই বিষয়টি খুবই পরিস্কার যে , জগতের প্রতিজন মানুষ ইমামের আওতাধীন রয়েছে । অর্থাৎ মহান আল্লাহ তাঁর সমগ্র সৃষ্টিজগত ইমাম বা নেতাবিহীন অবস্থায় রাখেন নি ।

সেইসাথে পবিত্র কোরআন দ্বারা এই বিষয়টি খুবই পরিস্কার যে , নবী রাসুল ও ইমাম মনোনয়ন ও নির্বাচনের দায়িত্ব মহান আল্লাহর নিজস্ব এখতিয়ারভুক্ত । অর্থাৎ ইমাম নির্বাচনের দায়িত্ব মহান আল্লাহ তাঁর বান্দাগনের উপর দেন নি ।

সেই হিসাবে বর্তমান যুগের আল্লাহ কতৃক মনোনীত ও নির্বাচিত ইমাম কে –
সেটা না জানার বিষয়টির ব্যর্থতা সম্পূর্ন আমাদের ।

এবং এই বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না যে , আমাদের বর্তমানের ইহজীবনে সংশোধন করে নেওয়ার সুযোগ আছে । কিন্ত কেয়ামতের ময়দানে সংশোধনের বিন্দুমাত্র অবকাশ নেই । তখন শুধু কৈফিয়ত দেবার পালা ।

আলাপের মূল প্রসংগে আসছি এখন –
উপরোক্ত পবিত্র কোরআনের আয়াত ও নবীজী (সাঃ) এর হাদিস দ্বারা জলের মত পরিস্কার যে , মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর ইন্তেকালের মাধ্যমে রেসালত পদ্বতির সম্পাতি ঘটেছে । সেই থেকে বর্তমান অবধি এবং কেয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ কতৃক নির্বচিত ইমামত পদ্বতি বিদ্যমান রয়েছে ।
তাহলে অতি অবশ্যই রাসুল (সাঃ) তাঁর জীবদ্দশাতেই ওঁনার ইন্তেকাল পরবর্তী স্থলাভিষিক্ত ইমাম বা নেতার নাম পরিচয় সমূহ উল্লেখ করে গেছেন ।

জ্বী পাঠক ,
বিদায় হজ্ব থেকে ফেরার পথে গাদীর এ খুম নামক স্থানে সোয়ালক্ষ্য হজ্ব ফেরৎ হাজী সাহাবাগনের সম্মুখে মহান আল্লাহর হুকুমে রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) সহ সর্বমোট বারজনকে সমগ্র মানবজাতির ইমাম বা নেতা নিযুক্ত করে গেছেন ।

পাঠক ,
এবারে আসুন , ইতিহাসের আরেক দিকে ।
আল্লাহর রাসুল (সাঃ) সবেমাত্র জগত সংসার থেকে বিদায় নিয়ে আল্লাহর নিকট চলে গেছেন । তাঁর ইন্তেকালের মাত্র তিনদিনের মধ্যেই মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক নির্বাচিত ও ঘোষিত ইমামত পদ্বতির প্রতি বৃদ্বাঙ্গুলী দেখিয়ে বনু সকীফা নামক স্থানে মহানবী (সাঃ) এর পথভ্রষ্ট কিছু আনসার ও মোহাজির প্রমুখ মিলে রাসুল (সাঃ) এর সদ্য শুন্য আসনটি অবৈধ ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে নিজেদের পছন্দ মত ভোটভোটি করে দখল করে নিল ।
নব্য দখলকৃত শাসন ব্যবস্থার নামকরন হল – খেলাফত পদ্বতি ।

আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক অনুমোদিত পদ্বতি হচ্ছে = ইমামত পদ্বতি ,
এবং পথভ্রষ্ট কতিপয় আনসার ও মুহাজির কতৃক মনোনীত পদ্বতি হচ্ছে = খেলাফত পদ্বতি ।

পাঠক ,
এখন আপনি কোন পদ্বতির অনুসরন ও আনুগত্য করবেন সেটা নিতান্তই আপনার ব্যক্তিগত অভিপ্রায় । কেননা ইহজীবনে সিদ্বান্ত গ্রহনের পূর্ন স্বাধীনতা আপনার রয়েছে ।

পবিত্র কোরআন বলে যে ,
” — দ্বীনের ব্যাপারে কোন জোর জবরদস্তি নেই । নিশ্চয়ই সুষ্পষ্ট হয়ে গেছে সৎপথ , ভ্রান্ত পথ থেকে — ” ।
সুরা – বাকারা / ২৫৬ ।

আপনার সদয় অবগতির জন্য এই তথ্যটুকু জানান যাচ্ছে যে , গাদীর এ খুমে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) কতৃক অনুমোদিত পদ্বতি যেই সম্প্রদায় অক্ষরে অক্ষরে ধারন ও পালন করে আসছে , তাদেরকেই বার ইমামীয়া শীয়া বলে অভিহিত করা হয় ।

পাঠক ,
পবিত্র কোরআনের এই আয়াতটি মনে করিয়ে দিয়ে আপাঃতত বিদায় —

“— থামাও তাদের , কারন তাদের অবশ্যই প্রশ্ন করা হবে — ” ।
সুরা – সাফফাত , আয়াত – ২৪ ।

হযরত আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বর্ননা করেন যে ,
তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হইবে অর্থাৎ হযরত আলী ইবনে আবু তালিব (আঃ) এর বেলায়েত বা ইমামতের ব্যাপারে তাহাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হইবে ।
ইহা আবু সাঈদ খুদরী , মুনদিল আনযী , সাঈদ বিন যোবাইর বর্ননা করিয়াছেন ।
সূত্র – সাওয়ায়েকে মুহরিকা , পৃ- ৮৯ / ফুসুলুল মোহিম্মা , পৃ- ১৩ / নুরুল আবসার , পৃ- ১৩ / তাফসীরে আলুসী , ২৩ তম খন্ড , পৃ- ৭৪ / মুরাজেয়াত , পৃ – ৫৮ / তাফসীরে কুমী , ২য় খন্ড , পৃ- ২২২ / শাওয়াহেদুত তানযিল , ২য় খন্ড , পৃ- ১০৬ / গায়াতুল মোরাম , পৃ – ২৫৯ / তাফসীরে ফুরাত , পৃ- ১৩১ / ফাজায়ালুল খামছা , ১ম খন্ড , পৃ- ২৮ ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
আল্লাহ পবিত্র কোরআনে আহলে বায়েত (আঃ) গনকে সম্মাান , অানুগত্য ও ভালবাসতে আদেশ দিয়েছেন ।
আহলে বায়েত (আঃ) এর শানে দরুদ পাঠান প্রত্যেক নামাজে আল্লাহ বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন ।
গাদীর এ খুমে নবীজী (সাঃ) ওনার ওফাত পরবর্তীতে মাওলা আলী (আঃ) কে ইমাম বা খলীফা হিসাবে আনুগত্য করার আদেশ দিয়েছেন ।

তো আমি বা আপনি আল্লাহ ও রাসুল (সাঃ) এই আদেশ আমাদের ইহজীবনে মেনেছি কিনা , মহান আল্লাহ কি সে বিষয় জিজ্ঞাদাবাদ না করেই ছেড়ে দেবেন ?

অতএব আমরা কি একটি বারও কি ভেবে দেখব না যে , রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পরে হযরত আলী (আঃ) ব্যতীত অন্য কোন ব্যক্তির ইমামত বা খেলাফত মানাটা কতটুকু জায়েজ বা বৈধ হবে !

হে আদমের সন্তান ,
কোরআনের এই সুষ্পষ্ট আয়াত অনুযায়ী , আমি এবং আপনি অবশ্যই পরকালে ইমাম আলী (আঃ) এর ইমামতের ব্যাপারে মহান আল্লাহ কতৃক জিজ্ঞাসিত হইব ।
অতএব , সময় থাকিতে সাধু সাবধান !

SKL