১২ ইমামিয়া শীয়ারা আযানে ও ইকামতে কেন ” আলীউন অলি আল্লাহ ” বলে —

১২ ইমামিয়া শীয়ারা আযানে ও ইকামতে কেন ” আলীউন অলি আল্লাহ ” বলে —

ডঃ তিজানী সামাভী বলেন —
কেন শীয়ারা আযান ও ইকামতে সাক্ষ্য দেয় যে, আলী (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহ কতৃক প্রেরিত অলী ।

আয়াতুল্লাহ বাকের সাদর (রঃ) বলেন যে –
আমিরুল মু’মিনিন হযরত আলী (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহর একজন বান্দা ,যাঁকে আল্লাহ অন্য সকলের মধ্য থেকে নির্বাচিত করেছেন , সম্মান ও মর্যাদা দান করেছেন ,যাতে তিনি নবুওয়াতের পর ইমামতের গুরু দায়িত্বকে নিজের ঘাড়ে তুলে নিতে পারেন ।

আর মাওলা আলী (আঃ) হচ্ছেন রাসুল (সাঃ) এর ওয়াসী ও স্থলাভিষিক্ত ।

যেহেতু সকল নবীরই একজন প্রতিনিধি ছিলেন , তেমনই আলী (আঃ) হচ্ছেন রাসুল (সাঃ) এর প্রতিনিধি ।
এজন্যেই আমরা তাঁকে অন্যান্য সকল সাহাবির চেয়ে বহু উচ্চে স্থান দিয়ে থাকি ।
কেননা স্বয়ং আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) তাঁকে উচ্চ মর্যাদা দিয়েছেন । এবং রেসালত ধারার সম্পাতির পরে ইমামত ধারার সর্বপ্রথম ইমাম , উলিল আমর হচ্ছেন মাওলা আলী (অাঃ) ।

এই বিষয়টি কোরআন ও হাদিসের আলোকে বিভিন্ন আক্কলী (বিবেক সম্মত) ও নাকলী (বর্ননাকৃত) দলিল আমাদের হাতে আছে ।
আর এই দলিল সমুহে কোন প্রকার সন্দেহের অবকাশ নাই । কেননা তা শুধু আমাদের পক্ষ থেকেই শুধু মুতাওয়াতির (বহুল প্রচারিত) নয় বরং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াতের কাছেও তা মুতাওয়াতির বলে বিবেচিত ।

এই বিষয়ের উপর আমাদের আলেমগন প্রচুর পরিমানে বই লিখেছেন ।

আর যেহেতু খিলাফতে বনি উমাইয়া এই নিগুঢ় ও অটূট সত্যকে ধ্বংস করার লক্ষ্যে আলী (আঃ) ও তাঁর সন্তানদের সাথে যুদ্ব করেছিল , তাদেরকে হত্যা করেছিল ; মিম্বরের থেকে তাঁর বিরুদ্বে লা’নত করার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল এবং মুসলমানদেরকে তা করার জন্য উপর্যপুরী চাপ সৃষ্টি করেছিল ।

তাই শীয়ারা ও তাঁর অনুসারীগন আযানে ও ইকামতে সাক্ষ্য দিয়ে থাকে যে , আলীউন অলি আল্লাহ অর্থাৎ আলী হচ্ছেন আল্লাহ কতৃক প্ররিত একজন অলি ।

আর এটা অত্যাচারী বনি উমাইয়াদের বিরুদ্বে শীয়াদের এক ধরনের প্রতিবাদি যুদ্ব ,যাতে করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এবং পবিত্র ১২ ইমাম (আঃ) গনের সম্মানকে প্রতিষ্ঠা করতে পারেন ।

আর তা যেন একটি ঐতিহাসিক বিষয় হয়ে থাকে এবং আগামী প্রজন্ম আলী (আঃ) এর প্রকৃত অধিকারের ব্যাপারে ও তাঁর শত্রুদের গোমরাহীর পথ সম্পর্কে অবগত হতে পারে ।

আর এই কারনেই আমাদের ফকিহগন ( যারা ফীকাহ শাস্ত্রে দক্ষ) এই প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়ে আলী (আঃ) এর বেলায়েতকে আযান ও ইকামতে সংযোজন করেছিলেন ।

যদিও তা আযান ও ইকামতে বলাটা হচ্ছে মুস্তাহাব , যা আযান ও ইকামতের অংশ নয় ।

সুতরাং যখনই কেউ আযান বা ইকামত দেয় এবং সে যদি এই মর্মে নিয়ত করে সাক্ষ্য দেয় যে , এটা আযান বা ইকামতের একটি অংশ তবে তাঁর আযান ও ইকামত বাতিল বলে গন্য হবে ।
সূত্র – অবশেষে সত্য পেলাম বইয়ের মুল আরবী থেকে ,পাতা ৮৮-৮৯ ।

ডঃ তিজানী সামাভী সুন্নী মাযহাবের অনুসারী ছিলেন তাই গবেষনার জন্য তিনি তিউনিশিয়া থেকে ইরাকের নাজাফে আশরাফে গিয়েছিলেন । আর সেখানে তাঁর বন্ধ্বুর মাধ্যমে শহিদ আয়াতুল্লাহ বাকের সাদরের(রঃ) সাথে পরিচিত হন ।
শহিদ আয়াতুল্লাহ বাকের সাদরের (রঃ) ১৩৫৩ হিজরীতে ইরাকের কাযেমাইনে জন্মগ্রহন করেন । যুবক বয়সেই তিনি ইজতিহাদের যোগ্যতায় উন্নিত হন । তিনি বিভিন্ন বিষয়ের উপর যেমন ফিকাহ শাস্ত্র , উছুল শাস্ত্র ,ইসলামী যুক্তিবিদ্যা , দর্শন ও আরো অন্যান্য বিষয়ের উপর প্রায় ২৪টি বই লিখেছেন ।
তিনি ইরাকের অত্যাচারী শাসক কমরেড সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্বে কলমের মাধ্যমে জিহাদ করেন এবং অবশেষে কুখ্যাত সাদ্দাম ৪৭ বছর বয়সে তাঁকে ও তাঁর সম্মানিত বোন বিনতুল হুদাকে ফাসীতে ঝুলিয়ে শহিদ করে ।
আসুন আমরা সবাই এই শহিদদের জন্য দোয়া ও শাফায়াত কামনা করি ।

SKL