ইমাম আলী (আঃ) এর ” বেলায়েত বা ইমামত ” কে অস্বীকার —

হযরত আলী (আঃ) এর ” বেলায়েত বা ইমামত ” কে অস্বীকার
এবং হারেস বিন নোমান ফেহরীর ঘটনা –

গাদীরের ঘটনা যে কতটুকু গুরুত্বপূর্ন তা পাঠকদের বুঝার জন্য একটি ঘটনা প্রমান স্বরুপ উল্লেখ করছি ।

এই ঘটনাটি এমন এক ব্যক্তির শাস্তি সম্পর্কিত যে হযরত আলীর (আঃ) বেলায়েত বা ইমামতকে অস্বীকার করেছিল ।

নবীজী (সাঃ) হযরত আলী (আঃ) কে ওনার স্থলাভিষিক্ত ঘোষনা করে দিয়েছেন এবং নবীজী (সাঃ) বলেছেন , যারা এখানে উপস্থিত রয়েছে তাদের কাজ হচ্ছে , অনুপস্থিত লোকদের কাছে এ ঘোষনাটি অবশ্যই পৌছে দেবে ।

হারেস বিন নোমান ( নবীজীর অনুসারী ) যখন এ সুসংবাদটি জানতে পারল , তখন তার কাছে বিষয়টি ভাল লাগেনি ।

সে নিজের উটের পিঠ থেকে নেমে সোজা নবীজীর (সাঃ) খেদমতে হাজির হয়ে বলল যে , আপনার নির্দেশ অর্থাৎ আল্লাহ ছাড়া কোন ইলাহ নেই , আপনি আল্লাহর প্রেরিত রাসুল , পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ , রমজান মাসের রোযা , হজ্ব , যাকাত , ফেৎরাসহ সকল কিছুই আপনার কথামত মেনে নিয়ে সাধ্যমত পালন করি । এতো কিছু মেনে নেওয়ার পরও আপনি সন্তষ্ট হলেন না ।
জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আপনি আপনার ভাই হযরত আলীকে আমাদের উপর আপনার তরফ থেকে অভিভাবক হিসাবে নিয়োগ দিয়ে দিলেন !
এবং বললেন যে , আমি যাদের যাদের মাওলা এই আলীও তাদের তাদের মাওলা ।
যেমনভাবে আপনার হুকুম মানা বাধ্যতামূলক তেমনি আলীর হুকুমও মানা বাধ্যতামূলক ।
এই আদেশ কি আপনার নিজের পক্ষ থেকে বলেছেন , নাকি আল্লাহর তরফ থেকে ?

এ রকম চরম বেয়াদবীমূলক কথার পরেও নবীজী (সাঃ) বললেন , এক আল্লাহর কসম , একথা আল্লাহর তরফ থেকে বলেছি , আমার নিজের থেকে নয় ।

“—– আর তিনি (রাসুল) কোন মনগড়া কথা বলেন না , বরং তা ওহী যা তার প্রতি প্রেরন করা হয় ——– ” ।
সুরা – নাজম /৩,৪ ।

হারেস প্রকাশ্যে সকলের সামনে দাড়িয়ে বলল , ” হে আল্লাহ মোহাম্মাদ (সাঃ) যা বললেন , তা যদি সত্য হয় , তাহলে আকাশ থেকে আমার উপর আজাব স্বরুপ পাথর বষন কর “।

বর্নণাকারী বলেন যে , হারেস তখনও নিজের উটের কাছে পৌছুতে পারেনি , আকাশ থেকে ছোট এক টুকরো পাথর তীব্রগতিতে হারেসের মাথায় পতিত হয়ে তার নিন্মদেশ দিয়ে বেরিয়ে গেল ।
ফলে সে সেই সময়ই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল ।

তারপরই এই আয়াতটি নাজিল হল ,
“—– এক প্রশ্নকারী জিজ্ঞেস করে সেই আযাব সম্বন্ধে , যা আপতিত হবে —- “।
সুরা – মায়ারেজ /১ ।
সূত্র- তাফসীরে কুরতুবি ,খন্ড-১০, পৃ-৬৭৫৭ / তাফসীরে সালবী ,খন্ড-২৯,পৃ- ৫২ / সীরাতে হালবিয়া , খন্ড – ৩ , পৃ- ২৭৫ / আল মীনার , খন্ড – ৮ , পৃ- ২৬৮ / জামেউল আহকামুল কোরআন , খন্ড – ১৮ , পৃ- ২৭৮ / শাওয়াহেদুত তানযিল , খন্ড – ২ , পৃ- ২৮৬ / তাযকেরা সিবতে ইবনে জওজি , পৃ- ১৯ / ফাযায়েলুন খামছা , খন্ড – ১ , পৃ- ৩৯ / নুরুল আবছার , পৃ- ১৭৮ / ফুসুলুল মোহিম্মাা , পৃ- ২৬ / কেফায়াতুল মোওয়াহেদিন , খন্ড – ২ , পৃ- ৩০০ / আল গাদীর , খন্ড – ১ , পৃ- ২৩৯ / তাফসীরে মানারিজ , খন্ড – ৬ , পৃ- ৪৬৪ / আরজাহুল মাতালেব , পৃ- ১১৮ (উর্দ্দু) / নুযহাতুল মাযালিস , খন্ড – ২ , পৃ- ২৪২ / বয়ানুস সায়াদাহ , খন্ড – ৪ , পৃ- ২০২ / তাফসীরে ফাতহুল বায়ান , খন্ড – ১০ , পৃ- ৪৮ (আল্লামা সিদ্দীক হাসান খান ভূপালী , আহলে হাদিস) ।

যাহোক ,
সুপ্রিয় পাঠক ,
এবার এই ঘটনার সাথে আপনার অবস্থান আপনি নিজেই দয়া করে যাচাই করে নিন ।

— মারেফাতে ইমামত ও বেলায়েত –
সংকলনে – নাজির হোসাইন ,
পৃ-৭০ , ৭১ অবলম্বনে —

SKL