মা ফাতেমা (সাঃআঃ) কে সাহায্য করার জন্য ইমাম আলী (আঃ) কেন এগিয়ে এলেন না —

প্রশ্ন –
যখন হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর গৃহে রাসুল (সাঃ) এর কতিপয় ক্ষমতালোভী সাহাবীরা হামলা করে তখন কেন হযরত আলী (আঃ) তরবারী তুলে নেন নি এবং হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) এর সাহায্যের জন্য কেন এগিয়ে আসেন নি ?

জবাব –
ইদানীং কিছু মুসলমান ভাই বিশেষ করে ওহাবীগন এইধরণের প্রশ্নের উপস্থাপন করেন যে , রাসুল (সাঃ) এর জামাতা , ভাই এবং খলীফাকে প্রশ্নের সম্মুখীন করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং তারা তাদের প্রকাশিত পুস্তক এবং টিভি চ্যানেলগুলোর মাধ্যমে তা প্রচার করে যাচ্ছে ।
এটি তাদের একটি ষড়যন্ত্রের নমুনা মাত্র ।

তাদের এই ষড়যন্ত্র মূলক প্রশ্নের জবাবে বলতে পারি –

১) –
হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) এর প্রতি যে অত্যাচার করা হয়েছে এবং যার ফলে তাঁর অকালে গর্ভপাত ঘটেছে এবং তাঁর গর্ভস্থ সন্তান মারা গেছে এবং যে বা যাদের কারণে এই ঘটনাগুলো ঘটেছিল হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) তাদের প্রতি প্রচন্ড রাগান্বিত ছিলেন তা অস্বীকার করার কোন পথ নেই ।

২) –
রাসুল (সাঃ) স্বয়ং নিজে হযরত আলী (আঃ) কে তাঁর ইন্তেকাল পরবর্তী ঘটনা সমূহে ধৈর্য ধারণ করার ওসিয়ত করে গিয়েছিলেন ।

৩) –
হযরত আলী (আঃ) ছিলেন মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত খলীফা । যেভাবে আল্লাহ তায়ালা আদম (আঃ) কে সিজদা করার নির্দেশ দান করার পর অস্বীকারকারীকে সময় দান করেছিলেন অনুরূপভাবে হযরত আলী (আঃ) যিনি ছিলেন আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত খলীফা তিনিও রাসুল (সাঃ) ইন্তেকালের পরে ধৈর্যধারণ করেছিলেন ।

৪) –
হযরত আলী (আঃ) এর উদাহরণ হচ্ছে হযরত হারুন (আঃ) এর ন্যায় , যা তিনি বণী ইসরাইলের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন ।

৫) –
রাসুল (সাঃ) যেরুপ তাঁর তাবলিগকালীন সময়ে ধৈর্য ধারণ করেছিলেন তাঁর নির্বাচিত খলীফা হযরত আলী (আঃ) ও তাঁর ইন্তেকালের পরে অনুরূপভাবে ধের্য ধারণ করেছিলেন ।

৬) –
হযরত আলী (আঃ) প্রকৃত এর সঙ্গি সাথী স্বল্পতা ছিল , ধৈর্য ধারণের একটি অন্যতম কারন ।

৭) –
যদি হযরত আলী (আঃ) তরবারী হাতে তুলে নিতেন তাহলে তারা তাঁকে এবং হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) কে হত্যা করত এবং (নাউযুবিল্লাহ) তারা প্রচার করত যে , তাঁরা মুরতাদ হয়ে গিয়েছিল এবং হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর হত্যার জন্য তারা হযরত আলী (আঃ) কে দায়ী করত যেমনভাবে সিফফিনের যুদ্ধে আম্মারের শাহাদতের জন্য হযরত আলী (আঃ) কে দায়ী করা হয়েছিল ।

৮) –
আমরা দেখেছি যে , সেই যুগের তথকথিত ব্যাক্তিবর্গরা একজন মুসলিম নারীর প্রতি অত্যাচার করছিল এবং তিনি উক্ত কাজের প্রতি কোন ধরণের প্রতিক্রয়ার বহিঃপ্রকাশ করেন নি । হয়ত হযরত আলী (আঃ) ও হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) এর ক্ষেত্রেও…।

৯) –
যখন হযরত উসমানের হত্যার পূর্বে তাঁর স্ত্রীকে লাঞ্ছিত করা হচ্ছিল । যদি অনুরূপ রাসুল (সাঃ) এর কন্যাকেও অপমানিত করা হত তাহলে…..।

১০) –
হযরত আলী (আঃ) এইজন্য ধৈর্যধারণ করেছিলেন যেন মুনাফিক , ইয়াহুদী , নাসারা এবং ভন্ড নবীদের পায়তারা বন্ধ হয়ে যায় ।

১১) –
কে বলেছে যে হযরত আলী (আঃ) তাঁর স্ত্রীকে অপমাণ করার কারনে কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নি বরং তিনি তাদের মধ্যে একজনের জামার বুকের অংশ ধরে আছাড় মারে এমনকি তাকে মেরে ফেলার মতো অবস্থা করে ফেলেন ।

আমরা উক্ত ঘটনা থেকে বুঝতে পারি যে , হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) কে অপমানিত করা হয় । এখন আমাদের দেখতে হবে যে , কে বা কারা হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) কে অপমানিত এবং অত্যাচার করেছিল ।

কিছু লোক যারা হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) প্রতি সাহাবীদের কর্তৃক হামলার প্রতি অস্বিকৃতি জানায় ।

হযরত আলী (আঃ) এর কি এত সাহস ছিল না যে , তিনি হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে হামলা করা সত্বেও চুপ ছিলেন ?

রাসুল (সাঃ) এর ওফাতের পরে হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে রাসুল (সাঃ) এর ক্ষমতালোভী কতিপয় সাহাবীরা হামলা করে এবং জনৈক সাহাবী ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরের দরজায় লাথি মারে এবং যার ফলে তাঁর উপরে জলন্ত দরজা পড়ে এবং তাঁর গর্ভে থাকা সন্তানটি মারা যায় এবং তার কিছুদিন পরে উক্ত কারণে হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) ও শাহাদত বরণ করেন ।

১) –
যদি এমনটি হয় তাহলে কে ছিল যে , রাসুল (সাঃ) এর প্রান প্রিয় দুলালির এইরূপ অবস্থা করে এবং তাঁর গর্ভের সন্তানটিকে অকালে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেয় । রাসুল (সাঃ) ফাতিমা (সাঃআঃ) এর জন্য বলেছেন –
ফাতিমা আমার দেহের একটি অংশ যে তাকে কষ্ট দিবে সে আমাকে কষ্ট দিবে ।

২) –
হযরত আলী (আঃ) যিনি ছিলেন ইসলামের বীর তার সম্মুখে তাঁর স্ত্রীর গর্ভে আঘাত হানা হবে এবং তিনি তার বিপরীতে কোনই প্রতিক্রিয়া দেখাবেন না কি এটা সম্ভব ।
আর যদি কোন প্রতিক্রিয়া নাই বা দেখান তাহলে কেন হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর হত্যাকারীদের কোন বিচার করা হয় নি ।

কেন হযরত আলী (আঃ) হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে হামলা করার সত্বেও কোন প্রতিক্রিয়া দেখান নি এবং তরবারী বাহির করেন নি নাকি আলী (আঃ) এর সাহস ছিল না ?

উক্ত প্রশ্নের কিছু উত্তর –

হযরত আলী (আঃ) যিনি ছিলেন ইসলামের বীর এবং অকুতভয়ী সৈনিক ।
তাহলে সেদিন এমন কি হয়েছিল যে , হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে হামলা করা হয়েছিল কিন্ত তার বিপরীতে তিনি নীরবতা অবলম্বন করেছিলেন ।
এমন কি কারণ ছিল যে , তিনি অত্যাচারীর বিরূদ্ধে রূখে দাড়ান নি ?

১) –
সহীহ বুখারী , মুসলিম শরীফে বর্ণিত হয়েছে যে , উক্ত হৃদয় বিদারক ঘটনার পরে হযরত ফাতিমা যাহরা (সাঃআঃ) মুসলিম জাহানের প্রথম খলীফার সাথে কথা বন্ধ করে দেন এবং মৃত্যুর পূর্ব পর্যন্ত তিনি তার সাথে কথা বলেন নি । তাঁর স্বামীকে ওসিয়ত করেন যে , তারা যেন তার জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ না করে এবং তাঁর দাফন কার্যে যেন তারা অংশগ্রহণ না করে ।

২) –
সীয়ূতি তিনি তার মুসনাদে ফাতিমা নামক গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে , মুসলিম জাহানের খলীফা তিনি বলেছেন যে ,
হায় যদি আমি আমার জীবনে এই তিনটি কাজ সম্পাদন না করতাম তার মধ্যে একটি হচ্ছে –

এক) – হায় যদি আমি ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরের দরজাকে না খুলতাম বা তাতে আগুন না লাগাতাম ,

দুই) – আলী (আঃ) এর কাছে বাইয়াত নেয়ার জন্য যেতাম এবং সেখানে যাওয়ার ফলে ফাতেমার প্রতি আমরা আঘাত হানি এবং যার ফলে তাঁর সন্তান অকালেই তার গর্ভে মারা যায় এবং যার কারণে হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর মৃত্যুও হয় ।

তিন) – হায় যখন বণু সাকীফাতে আমাকে খেলাফতের দ্বায়িত্ব দেয়া হচ্ছিল তখন যদি আমি তা কবুল না করতাম ।

রাসুল (সাঃ) এর ইন্তেকালের পরে হযরত আলী (আঃ) ছিলেন আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত প্রথম খলীফা ।
তাই যে সমস্ত কাজের জন্য খোদার পূর্বের নির্বাচিত বান্দারা হিকমতের কারণে করেছেন অর্থাৎ ধৈর্য ধারণ , হযরত আলী (আঃ) ও উক্ত কাজটি করেছেন । আর সেই ধৈর্যশীল কাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে আগুন এবং হামলা করার সময় ধৈর্য ধারণ করা । রাসুল (সাঃ) একাধিকবার বলেছেন যে , তোমার স্থান হচ্ছে আমরা কাছে মূসার কাছে হারুনের ন্যায় ।

আমরা কোরআনের তাফসীরে দেখতে পাই যে , হযরত হারুন (আঃ) হযরত মূসা (আঃ) এর উম্মতের অত্যাচারের বিপরীতে কিভাবে ধৈর্য ধারণ করেন । কেন তিনি বণী ইসরাঈলকে গো বৎসকে পূজা করা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেন ।
অনুরূপভাবে হযরত আলী (আঃ) যেহেতু ছিলেন হযরত হারুনের ন্যায় সেহেতু তিনিও ধৈর্য ধারণ করেন ।

যারা এই বিষয়টিকে অস্বীকার করে যে , ফাতিমার ঘরে আগুন জ্বালান হয় নি তাদের জবাবে আমরা বলতে পারি যে , রাসুল (সাঃ) মক্কায় থাককালিন অবস্থায় তিনি বহুবার দেখেছেন যে , নও মুসলিমদেকে কিভাবে অত্যাচার করা হয়েছিল কিন্তু তিনি তারপরেও ধৈর্য ধারণ করেছিলেন এবং কোন ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখান নি ।
অথচ হযরত মুহাম্মাাদ (সাঃ) এর সাহসীকতা সম্পর্কে হযরত আলী (আঃ) বলেন যে , তিনি এত বেশী সাহসী ছিলেন যে , যখন যুদ্ধ ভয়াবহ অবস্থা ধারণ করত তখন আমরা রাসুল (সাঃ) এর কাছে আশ্রয় গ্রহণ করতাম ।
কিন্ত সেই রাসুল তাঁর জীবনে বহুবার বহু ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেছেন ।
নাউযুবিল্লাহ কি রাসুল (সাঃ) এর সাহস কম ছিল । কেন রাসুল (সাঃ) যখন সুমাইয়া এবং ইয়াসীরকে যে মর্মান্তিকভাবে শহীদ করা হয় কিন্ত তিনি তারপরেও ইসলামের ক্ষেত্রে ধৈর্য ধারণ করেন ।
ঐ একই কারণে হযরত আলী (আঃ) যিনি ছিলেন রাসুল (সাঃ) এর নাফস তিনিও একই কারণে ধৈর্য ধারণ করেন ।

হযরত আলী (আঃ) এর ধৈর্য ধারণের আরেকটি কারণ হচ্ছে –
রাসুল (সাঃ) এর ওসীয়ত যা তিনি হযরত আলী (আঃ) কে করে গিয়েছিলেন ।
হযরত আলী (আঃ) হচ্ছেন আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত খলীফা তাই আমাদের সাধারণ মানুষের তা বোধগম্যের বাইরে যে , কেন তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন ।

রাসুল (সাঃ) হযরত আলী (আঃ) কে একাধিকবার বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে ইঙ্গিত করে গেছেন –

খাসায়েসুল আয়েম্মা নামক গ্রন্থে উল্লেখ করা হয়েছে যে , রাসুল (সাঃ) হযরত আলী (আঃ) কে বিভিন্ন ঘটনা সম্পর্কে ইশারা করেন এবং বলেন যে ,
হে আলী ! তুমি এতাবস্থায় ধৈর্যধারণ কর যতদিন তুমি জীবিত রয়েছ ।
ইতিহাস বলে যে , রাসুল (সাঃ) এর পরে আলী (আঃ) যতদিন বেঁচে ছিলেন ততদিন পর্যন্ত তার অবস্থা এমন ছিল যে , তাঁর চোখে কাঁটা বিধে রয়েছে এবং গলায় হাঁড় বিধে রয়েছে এমন একটি অবস্থায় তিনি ধৈর্য ধারণ করে ছিলেন এবং যখন তিনি মারা যান তখন তিনি বলেন –
কাবার রবের কসম , আমি সফলকাম হয়েছি ।

অন্য এক স্থানে আমরা দেখতে পাই যে , রাসুল (সাঃ) ইমাম আলী (আঃ) কে বলেছেন যে ,
হে আলী , আমার পরে কুরাইশের লোকেরা তোমার উপরে অত্যাচার করবে এমতাবস্থায় যদি তুমি সঙ্গি সাথী পাও তাহলে তাদের বিরূদ্ধে কিয়াম কর আর তা না হলে ধৈর্য ধারণ কর ।

আর তাই আমরা দেখতে পাই যে , যখন কিছু সাহাবী হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে হামলা করে তখন তিনি তাদের কে উদ্দেশ্যে করে বলেন যে , জেনে রাখ , যদি আমি খোদা কোরআন এবং রাসুল (সাঃ) এর কাছে অঙ্গিকারবদ্ধ না হতাম তাহলে কখনই তোমরা ফাতিমার ঘরে হামলা করার সাহস পেতে না ।

কারও কারও মতে ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে হামলা করার জন্য ৪০ জন এবং কারও কারও মতে ৪০০ জন সাহাবী এসেছিল এমতাবস্থায় যদি আলী (আঃ) তাদর উপরে হামলা করত তাহলে ইসলামে এক চরম বিভ্রান্তি এবং বিশৃঙ্খা সৃষ্টি হত যা আলী (আঃ) কখনও চান নি ।

হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) ৪০ দিন যাবৎ রাসুল (সাঃ) এর সাহাবীদের ঘরে যান এবং তাদেরকে গাদীর এ খুমের ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেন এবং বলেন যে , তোমরা কি গাদীরের ঘটনার কথা ভুলে গেছ ?

ইতিহাস বলে যে , যারা হযরত আলী (আঃ) কে সাহায্যে করার ওয়াদা করে যে আমরা আপনাকে সাহায্য করব , আলী (আঃ) তাদেরকে বলেন আগামীকাল তোমরা নিজেদের মাথার চুল মুন্ডন করে অমুক স্থানে আমার সাথে দেখা করবে ।
অনেকেই নিজেদের মাথার চুলকে মুন্ডন করে নি এবং আবার কিছু লোক তাদের মাথার অর্ধেক চুলকে মুন্ডন করেছিল যেন তারা দুই দলেই থাকার দাবী করতে পারে ।
হযরত আলী (আঃ) এ সম্পর্কে তার খুৎবাতে (সেকসেকিয়া) উল্লেখ করেছেন ।

যদি এমতাবস্থায় আলী (আঃ) তরবারীকে হাতে তুলে নিতেন তাহলে কি অবস্থা দাড়াত ?

– হয়তো তিনি অনেককেই হত্যা করতেন ।

– হয়তো তারা আলী (আঃ) কে হত্যা করত এবং বলত যে আলী মুরতাদ হয়ে গেছিল ।

সেই যুগে সামাজিক অবস্থা এমন ছিল যে , মুনাফিক , মুরতাদ , ইয়াহুদি , ভন্ড নবী এবং নাসারারা ইসলামকে ধ্বংস করার পায়তারা চালাচ্ছিল । এমতাবস্থায় আলী (আঃ) রাসুল (সাঃ) এর কথানুযায়ি ধৈর্য ধারণ করাকে শ্রেয় বলে মনে করেন ।

অনেকে বলেন যে , হযরত আলী (আঃ) তখনও ধৈর্য ধারণ করছিলেন যখন ফাতিমা (সাঃআঃ) এর ঘরে রাসুল (সাঃ) এর ক্ষমতালোভী কতিপয় সাহাবীরা আগুন লাগানোর জন্য আসে এবং তাঁর ঘরের দরজা ভেঙ্গে ফেলার চেষ্টা করে ।
তখন তিনি জনৈক সাহাবীকে ধরে আছাড় মারে এবং কিল ও ঘুষি মারে তখন জনৈক সাহাবী আগুন আনার নির্দেশ দেয় এবং ফাতিমার দরজায় আগুন লাগিয়ে দেয় এবং দরজা ভেঙ্গে ঘরের ভিতরে ঢুকে তখন হযরত ফাতিমা (সাঃআঃ) জনৈক সাহাবীর সামনে আসে এবং বলে যে ,
ইয়া রাসুল আল্লাহ (সাঃ) তখন জনৈক সাহাবী তরবারীর হাতল দ্বারা ফাতিমা (সাঃআঃ) পাজরে আঘাত করে । তখন আলী (আঃ) বলেন , ইয়া রাসুল (সাঃ) । তখন জনৈক সাহাবী চাবুক দ্বারা তার হাতে আঘাত করে ।

ওহাবীরা এখানে প্রশ্ন তুলে যে ,
কেন আলী (আঃ) ফাতিমা (সাঃআঃ) এর সাহায্যর জন্য এগিয়ে আসেন নি ?
তাদের উত্তরে আমরা আরো বলতে পারি যে ,

– যখন হযরত আবু বকর এর ইসলাম গ্রহণের পরে তার সামনে একজন মুসলিম নারীকে একজন অমুসলিম নির্যাতন বা অত্যাচার করছিল তখন কেন তিনি সেই মুসলিম নারীর সাহায্যে এগিয়ে আসেন নি ।

– যখন হযরত উসমান কে হত্যা করার জন্য কিছু উগ্রবাদি লোকেরা তার ঘরে প্রবেশ করে এবং তার সামনে তার স্ত্রীকে কিছু অবাঞ্চিত কথাবার্তা বলে এবং তার হাতের আঙ্গুলকে কর্তন করে তখন কেন তিনি কিছু বলেন নি ।

হযরত আলী (আঃ) এর সামনেও এমনই কিছু সমস্যাবলি এবং শর্তাবলি ছিল যার কারণে তিনি ধৈর্য ধারণ করেছিলেন ।

আমাদের কাছে উপরের উক্ত আলোচনা থেকে একটি বিষয় খুবই স্পষ্ট হয় যে , এখনও কিছু লোক রয়েছে যারা এ ধরণের প্রশ্নের উপস্থাপন করে মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্ত সৃষ্টি করার চেষ্টা করে যাচ্ছে ।
যাদের চিন্তাধারার মূল নায়ক হচ্ছে ইয়াহুদি ও আমেরিকা ।
অবশ্যই আমরা তাদের ষড়যন্ত্র সম্পর্কে সচেতন থাকব ।
কেননা মুসলমানদের মধ্যে বিভ্রান্তিই হচ্ছে তাদের মূল লক্ষ্য ।

তাই আসুন আমরা ইসলামের তৎকালীন সত্যিকার ইতিহাস সম্পর্কে জ্ঞাত হই এবং মহান আল্লাহর রজ্জুকে আকড়ে ধরি আর এতেই নিহিত রয়েছে ইসলাম ও আমাদের সার্বিক মঙ্গল ।

 

SKL