ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন —- সর্বশেষ – ০৭

— ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন —-
সর্বশেষ – ০৭ ।

ইদানীং অনেকেই বলে থাকেন যে , কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার জন্য ঈয়াযীদ মোটেই দায়ী নন ।
বেশ ভাল কথা ।
কথা বলার স্বাধীনতা সকলের আছে , হোক সে কথাটা খাঁটি সত্য অথবা ডাঁহা মিথ্যা ।

প্রিয় পাঠক ,
সংগত কারনে এখানে শীয়াদের রেফারেন্স দেয়া যাচ্ছে না ।

আসুন দেখে নেই ,
সুন্নি ভাইদের বিখ্যাত ইতিহাসবিদগনের কিতাব কি বলে –

পর্ব – ০৭ —

কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার প্রত্যক্ষ সাক্ষী আলী কন্যা হযরত যায়নাব বিনতে আলী (সাঃআঃ) ঈয়াযীদের সম্মুখেই তাকে ইমাম হোসেন (আঃ) এর হত্যাকারী বলেছেন —

কারবালা প্রান্তর থেকে মহানবী (সাঃ) এর বংশের বন্দি নারী , শিশু এবং ৭২ জনের পবিত্র কর্তিত মস্তকগুলো নিয়ে উবাইদূল্লাহ ইবনে যিয়াদের নির্দেশে সৈন্যরা সিরিয়ায় অবস্থিত ঈয়াযীদের রাজদরবারে পৌঁছে ।
ঈয়াযীদের নির্দেশে সকল বন্দিগন ও কর্তিত মস্তকগুলো তার সামনে রাখা হয় ।

ইমাম হোসেন (আঃ) এর পবিত্র মস্তকের প্রতি ঈয়াযীদের দৃষ্টি পড়া মাত্র সে তার হাতে থাকা লাঠি দিয়ে তাঁর পবিত্র গলা , ঠোঁট ও দাঁতে আঘাত করতে থাকে এবং আনন্দে উৎফুল্ল হয়ে ইবনে যেবারার কবিতাটি অাওরাতে থাকে ।

এই জঘন্য দৃশ্য দেখে হযরত যায়নাব (সাঃআঃ) অত্যন্ত বলিষ্ঠ ভাবে ঈয়াযীদের ইসলামের বাহ্যিক মুখোশ উম্মোচন করেন ।
তিনি ঈয়াযীদের সমস্ত কর্মকান্ডকে ইসলাম বহির্ভুত এবং ব্যক্তিগত বিদ্বেষ ও গোত্রীয় আক্রোশপ্রসূত প্রমান করে এক দীর্ঘ বাগ্মিতাপূর্ন বক্তব্য প্রদান করেন ।

বক্তব্যের একস্থানে এই অসীম সাহসী মহিলা বলেন , ” হে ঈয়াযীদ ! এত বড় মহাঅপরাধ করার পরেও তুই নিজেকে অপরাধী না ভেবে এবং এটা যে কত বিশাল অপরাধ সেটা চিন্তা না করেই বলছিস যে , ” হায় ! আমার পূর্বপুরুষরা যদি এখানে এখন উপস্থিত থাকত ” ।
তুই কি মনে করেছিস যে , তারা তোর এই কথা শুনে আনন্দে অভিভূত হয়ে তোকে বলত , ” হে ঈয়াযীদ ! তোর হাত পঙ্গু না হোক ” ।
তুই বেহেশতের সর্দারের দাঁতে আঘাত করছিস এবং সাংঘাতিক ঔদ্বত্যমূলক কথা বলছিস !
তুই কতটা নির্লজ্জ !
হ্যা , এইরুপ উদ্ভট ও অসংগত কথা বলা তোর পক্ষেই মানায় । কারন তুই হচ্ছিস ঐ ব্যক্তি যে পূর্বের ক্ষতকে উম্মুক্ত করেছিস এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) এর বংশধরের রক্তে যার হাত রজ্ঞিত ।
তুই আব্দুল মুত্তালিবের বংশের তারকাদের হত্যা করেছিস এবং আমাদের মূল শেকড়কে কর্তন করেছিস ।
আর এখন আনন্দে আত্মহারা হয়ে পূর্বপুরুষদেরকে ডাকছিস এবং ভাবছিস যে , ওরা তোর এই ডাক শুনতে পাচ্ছে ! খুব শীঘ্রই তুই তাদের সাথে মিলিত হবি এবং তখন এমন ভয়ংকর শাস্তির সম্মুখীন হবি যে , তখন তোর মনে হবে , হায় , যদি পূর্বেই তোর হাতগুলো পঙ্গু হয়ে যেত এবং জিহবা বোবা হয়ে যেত ।

সূত্র – ইবনে তাইফুর , বালাগাতুন্নিসা , পৃ – ৩৪ ।

ইমাম হুসাইন (আঃ) এর হত্যায় ঈয়াযীদের ভূমিকা ,
সংকলনে – আবু যাহরা ,
প্রকাশনায় – আশেকানে আহলে বাইত , বাংলাদেশ ,
পৃষ্ঠা – ৯ থেকে সংকলিত ও সংগৃহীত ।

SKL