হযরত আলী (আঃ) কে কেন আবু তোরাব বলা হয় —

আবু তোরাব —–
কেন হযরত আলী (আঃ) কে আবু তোরাব বা মাটির পিতা বলা হয় ?

চিন্তা ও দর্শন বিভাগ –
রাসূল (সাঃ) বলেছেন , যখন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে তখন হযরত আলী (আঃ) এর অনুসারীগন বা শীয়াদেরকে এত বেশী সওয়াব দান করা হবে যে , কাফেররা বলবে , হায় ! আমরাও যদি মাটি তথা হযরত আলী (আঃ) অনুসারী বা শীয়া হতাম !

শাবিস্তান বার্তা সংস্থার রিপোর্ট –
বিভিন্ন হাদিস থেকে প্রমাণিত হয় যে , রাসূল (সাঃ) বিভিন্ন উপলক্ষে এবং বারংবার হযরত আলী (আঃ) কে আবু তোরাব বা মাটির পিতা বলে ডাকতেন এবং এই উপাধি তিনি নিজেই হযরত আলী (আঃ) দিয়েছিলেন ।

এ সম্পর্কে আমরা দুটি হাদিস আপনাদের সামনে তুলে ধরছি –

১) –
দ্বিতীয় হিজরির ১৫ই জামাদিউল আওয়াল রাসূল (সাঃ) তাঁর কিছূ সাহাবাদেরকে নিয়ে কুরাইশদের কাফেলার উদ্দেশ্যে রওনা হন এবং আশিরা নামক স্থানে পৌছান ।
কিন্ত তারপরও কাফেলার কোন সন্ধান মেলে নি ।
আশিরায় থাকা অবস্থায় একদিন রাসুল (সাঃ) হযরত আলী (আঃ) এবং আম্মারের কাছে গিয়ে দেখলেন , তারা শুয়ে আছেন আর তাদের মুখে ধুলা পড়েছে ।
রাসূল (সাঃ) তাদের দু,জনকে আদর করে ডেকে , হযরত আলী (আঃ) কে বলেন ,
” হে আবু তোরাব ! আমি তোমাকে দু’টি অতি খারাপ ও মন্দ লোকের সংবাদ দিতে চাই । একজন হচ্ছে কাদার বিন সালেফ (আহমির) যে হযরত সালেহর উটকে হত্যা করেছিল । আরেকজন হচ্ছে সে , যে তোমার ঘাড়ে তলোয়ারের আঘাত করবে এবং তোমার মাথার রক্তে তোমার দাড়িকে রঞ্জিত করবে ” ।

এর পর থেকে সকলে হযরত আলী (আঃ) কে আবু তোরাব বলে ডাকতেন ।

এবং হযরত আলী (আঃ) নিজেও এই উপাধিটি অনেক পছন্দ করতেন কেননা রাসূল (সাঃ) তাঁকে এই‌ নামে ডেকেছিলেন ।

২) –
ইবনে আব্বাস বলেন , মহানবী হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এই জন্য হযরত আলী (আঃ) কে আবু তোরাব বলতেন , কেননা রাসূল (সাঃ) -এর পর হযরত আলী (আঃ) হচ্ছেন পৃথিবীর মালিক এবং পৃথিবীতে আল্লাহর হুজ্জাত ।
আর তাঁর কারণেই পৃথিবী টিকে আছে ।
এ জন্যই হযরত আলী (আঃ) আবু তোরাব বলা হয় ।

পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে যে ,
কাফেররা কিয়ামতের দিন বলবে , আমরা যদি মাটি হতে পারতাম ।
অর্থাৎ আমরা যদি আলী (আঃ) এর অুনসারী বা শীয়া হতে পারতাম ।
আর হযরত আলী (আঃ) যেহেতু শীয়াদের নেতা বা ইমাম , তাই ইমাম আলী (আঃ) কে আবু তোরাব বলা হয় ।

৩) –
একদা হযরত আলী (আঃ) মাটিতে শুয়ে ছিলেন , রাসূল (সাঃ) তাঁকে উঠিয়ে তার ধুলা ঝেড়ে দিয়ে বলেন , হে আবু তোরাব ! ওঠ , আমার পিতা মাতা তোমার জন্য উৎসর্গ হোক ।

সম্মানীয় পাঠক ,
আপনিই বা কেন মহান আল্লাহর এই অশেষ রহমত বা নেয়ামত থেকে নিজেকে বঞ্চিত করবেন !
দয়া করে কাল বিলম্ব না করে মহান আল্লাহ কতৃক নির্বাচিত ইমামত পদ্বতি সম্বন্ধে আজই অবহিত হন ।
এক্ষেত্রে আপনি কোন মাযহাব যেমন শীয়া – সুন্নি – ওহাবী ইত্যাদি কিছুই বিবেচনা করবেন না ।
আপনি শুধু মহান আল্লাহ ও তাঁর রাসুল (সাঃ) এর নির্দেশ বিনা শর্তে মনে প্রানে কবুল করে নিবেন ।

SKL