হযরত আবু বকর যুদ্বে গেলেন না —

হযরত আবু বকর যুদ্বে গেলেন না –

ইবনে আবিল হাদিদ বর্ণনা করেন –
নবী করিম (সাঃ) হযরত আয়েশার বাড়িতে ছিলেন ।
হজরত বেলালের আজানের শব্দ নবীজী (সাঃ) এর কানে আসে ।
নবী করিম (সাঃ) বলেন যে , আমি অত্যন্ত দুর্বল । মসজিদে যেতে পারব না ।
যে কোন একজনকে নামাজ পড়াতে বল ।

তখন তাঁর নিকট খবর আসে যে , হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর মসজিদে আছেন ।
এবং হযরত আবু বকর নামাজের ইমামতি করছেন ।
এই খবর শুনে মহানবী (সাঃ) অত্যন্ত অসন্তুষ্ট হন । কেননা এ সময়ে হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরের মসজিদে থাকার কথা ছিল না ।
কারন মহানবী (সাঃ) তাদেরকে হযরত উসামার নেতৃত্বে গঠিত সেনাবাহিনীতে গিয়ে যোগদানের নির্দেশ দিয়েছিলেন ।

অতএব হযরত আবু বকর ও হযরত ওমরের এ সময় মসজিদে থাকার অর্থ হচ্ছে নবীজী (সাঃ) এর নির্দেশকে পুরোপুরি ভাবে অমান্য করা ।

যারা উসামার সেনাবাহিনীতে যেতে অমান্য করেছে তাদের সম্পর্কে মহানবী (সাঃ) বলেন –

لَعَنَ اللَّهُ مَنْ تَخَلَّفَ عَنْ جَيْشِ أُسَامَة

যারা উসামার বাহিনীকে অমান্য করেছে তাদের ওপর আল্লাহর লানত বা অভিসম্পাত বর্ষিত হোক ।
সূত্র – শারহে নাজুল বালাগাহ , খন্ড – ৯ , পৃ – ১৯৭ , খন্ড – ১৩ , পৃ – ৩৩ ।

মহানবী (সাঃ) তখন আমিরুল মুমিনিন আলি (আঃ) ও ফাজল ইবনে আব্বাসকে বলেন , আমাকে এখুনি মসজিদে নিয়ে যাও ।
তাঁরা মহানবী (সাঃ) কে মসজিদে নিয়ে যান ।
মহানবী (সাঃ) মসজিদে প্রবেশ করে হযরত আবু বকরকে মেহরাব হতে সরিয়ে দেন ।
তিনি (সাঃ) নিজেই নামাজের ইমামতি করেন ।
মহানবী (সাঃ) অত্যন্ত দুর্বল থাকার কারনে বসে থেকে নামাজ পড়ান ।

রাসুলুল্লাহ (সাঃ) নামাজের পর বক্তব্য দান করেন ।

তিনি সাহাবাগণকে তাঁর ইন্তিকালের পর ফেতনা সৃষ্টি হওয়া সম্পর্কে সাবধান করে দেন ।

তিনি সেখানে হাদিসে সাকালাইন পুনরায় নর্ণনা করেন –
إنّي تارك فيكم الثقلين كتاب اللّه و عترتي لن تضلّوا ما إن تمسّكتم بهما

অর্থাৎ আমি তোমাদের মাঝে দুইটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস রেখে যাচ্ছি , একটি হচ্ছে আল্লার কিতাব (আল কোরআন) অপরটি হচ্ছে আমার ইতরাত (আহলুল বাইত) । এই দুইটিকে যদি দৃঢ়ভাবে আকড়ে ধর তাহলে কখনই পথভ্রষ্ট হবে না ।
সূত্র – আল মুরশেদ ফি ইমামাতি আলি ইবনে আবি তালেব আলাইহিস সালাম, পৃঃ ১১৬ /
সহীহ তিরমিজি , খন্ড – ৬ , হাদিস – ৩৭৮৬ , ৩৭৮৮ (ইসলামিক ফাউন্ডেশন) / মেশকাত , খন্ড – ১১ , হাদিস – ৫৮৯২ , ৫৮৯৩ (এমদাদীয়া লাইব্রেরী) / তাফসীরে মাযহারী , খন্ড – ২ , পৃষ্ঠা – ১৮১ , ৩৯৩ (ইফাঃ) / তাফসীরে হাক্কানী (মাওলানা শামসুল হক ফরিদপুরী ) , পৃষ্ঠা – ১২ , ১৩ (হামিদীয়া লাইব্রেরী) / তাফসীরে নুরুল কোরআন , খন্ড – ৪ , পৃষ্ঠা – ৩৩ (মাওলানা আমিনুল ইসলাম) / মাদারেজুন নাবুয়াত , খন্ড – ৩ , পৃষ্ঠা – ১১৫ (শায়খ আব্দুল হক দেহলভী) / ইযাযাতুল খিফা (শাহ ওয়ালিউল্লাহ) , খন্ড – ১ , পৃষ্ঠা – ৫৬৬ / মুসলিম মুসনাদে আহমদ / নাসাঈ / কানযুল উম্মাল / তাফসীরে ইবনে কাছির / মিশকাতুল মাছাবিহ / তাফসীরে কবির ।

অতঃপর রাসুল (সাঃ) হযরত আবু বকর , হযরত ওমর ও হযরত ওসমানসহ বার জন সাহাবাকে একত্রিত করেন
এবং তাদেরকে বলেন ,
আমি কি তোমাদেরকে উসামার দলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিই নি ?
তাহলে কেন তোমরা যাও নি ?
কেন তোমরা এখনও মদিনায় রয়েছ ?

সকলেই বিভিন্ন ওযর আপত্তি দেখায় ।
হজরত আবু বকর বলেন , আমি পুনরায় আপনার হাতে বাইআত করতে চাই ।
হযরত উমর বলেন , আমি আপনার খবর কাফেলার নিকট হতে জানতে চাওয়াকে পছন্দ করি নি ।
সূত্র – বুখারী, খঃ ১, পৃঃ ২২, কিতাবুল ইলম, ও খঃ ২, পৃঃ ১৪। মুসলিম, খঃ ২, পৃঃ ১৪ ।

বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে যে ,
রাসুল (সাঃ) তিনবার বলেন –
نفذوا جیش اسامه
অর্থাৎ উসামার বাহিনীকে সুসজ্জিত কর ।
সূত্র – আল মিলাল ওয়ান নেহাল , শাহরেস্থানী, খঃ ১, পৃঃ ২৩ / তারিখে তাবারী , খঃ ৩, পৃঃ ৪২৯ / মাগাজী, খঃ ২, পৃঃ ১১৭ ।

সম্মাানীয় পাঠক ,
পরিশেষে পবিত্র কোরআনের দুটি আয়াত উল্লেখ করে আপাঃতত বিদায় –

” — এবং যেই অমান্য করে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে (নির্দেশ) , নিশ্চয়ই তার জন্য থাকবে জাহান্নামের আগুন , সেখানেই থাকার জন্য চিরকাল — ” ।
সুরা – জ্বীন / ২৩ ।

” — একজন মুমিন পুরুষ ও একজন মুমিন নারীর অধিকার নেই , যখন আল্লাহ ও তাঁর রাসুল কোন একটি বিষয় সিদ্বান্ত নিয়েছেন , তাদের বিষয় অন্য কিছু পছন্দ করার এবং যে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলকে অমান্য করে নিঃসন্দেহে [সে] পথভ্রষ্ট হয়েছে সুষ্পষ্ট ভুলের ভিতরে — ” ।
সুরা – আহযাব / ৩৬ ।

সুপ্রিয় পাঠক ,
আপনি যথেষ্ট শিক্ষিত ও বিবেকবান একজন মানুষ ।
এই যদি হয় তথাকথিত আশারা মুবাশেরা বা জান্নাতের সুসংবাদ খ্যাত প্রাপ্তদ্বয়ের কীর্তিকলাপ !!

সামাজ দারকে লিয়ে ইশরা কাফি হোতা হ্যায় !
কি আর বলিব আমি এবং আপনিই বা কি বলিবেন —
স্তম্ভিত ও নির্বাক হয়ে গেলাম ,
ভাষা যে হারিয়ে ফেলেছি !

SKL