সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বে বিশ্বাসের ক্ষেত্রে ভীতি ও অজ্ঞতার ভূমিকা

অপর একটি ভুল ধারণা, যা কোন কোন সমাজতাত্ত্বিকের পক্ষ থেকে বর্ণিত হয়েছে, তা হল এই যে, খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসসমূহ বিপদের প্রভাব বিশেষকরে, ভূমিকম্প, বজ্রপাত ইত্যাদি থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে। প্রকৃতপক্ষে মানুষ স্বীয় মানসিক শান্তির জন্যে খোদা নামক এক কাল্পনিক অস্তিত্বকে (العیاذ بالله) সৃষ্টি করেছে এবং তার উপাসনায় আত্মনিয়োগ করেছে। সুতরাং এ ধারণামতে প্রাকৃতিক ঘটনাসমূহের উৎপত্তির কারণ

এবং ঐগুলো থেকে নিরাপদে থাকতে পারার পদ্ধতি যতবেশী আবিস্কৃত হবে খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসও ততটা দুর্বলতর হতে থাকবে।

মার্কসবাদীরা আরও বাগাড়ম্বরপূর্ণতা সহকারে স্বীয় পুস্তকসমূহে এ বিষয়টিকে সমাজতত্ত্ব বিজ্ঞানের অর্জিত বিষয় বলে উল্লেখ করে থাকেন এবং মূর্খ ব্যক্তিদেরকে প্রতারণা করার জন্যে এটি একটি কৌশল মাত্র বলে মনে করে থাকেন।

উত্তরে বলা উচিৎঃ

প্রথমতঃ এ ভুল ধারণার উৎস হল কোন কোন সমাজতত্ত্ববিদের অনুমান এবং এর সপক্ষে যথোপযুক্ত কোন তাত্ত্বিক যুক্তি নেই।

দ্বিতীয়তঃ অধুনা অনেক জ্ঞানী ব্যক্তিই, যারা প্রাকৃতিক ঘটনার কারণ সম্পর্কে অন্য সকলের চেয়ে বেশী অভিজ্ঞ ছিলেন ও আছেন এবং এমতাবস্থায় খোদার অস্তিত্ব সম্পর্কেও তারা সন্দেহাতীত ও দৃঢ় বিশ্বাস স্থাপন করতেন এবং করছেন। (যেমনঃ আইনেষ্টাইন, মরিসন, অ্যাল্যাক্সিস কার্ল ও অন্যান্য প্রখ্যাত জ্ঞানী ব্যক্তিগণ খোদার অস্তিত্ব শিরোনামে প্রবন্ধ লিখেছেন) অতএব খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাস যে, ভীতি ও অজ্ঞতারই ফল, এমনটি হতে পারে না।

তৃতীয়তঃ কোন কোন প্রাকৃতিক ঘটনা থেকে উৎসারিত ভীতি ও তাদের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে অজ্ঞতাই যদি খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসের কারণ হয়েও থাকে, তথাপি তার অর্থ এ নয় যে, খোদা ভীতি ও অজ্ঞতার সৃষ্টি।

এমন অনেক মানসিক প্রবণতা আছে, যেমনঃ সৌন্দর্যপ্রিয়তা, খ্যাতি লাভেচ্ছা ইত্যাদি, যা তাত্ত্বিক, প্রকৌশলিক ও দার্শনিক গবেষণার কারণ হয়ে থাকে। অথচ তা ঐগুলোর বিশ্বস্ততাকে কোনভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত করে না।

চতুর্থতঃ যদি কেউ খোদাকে অজ্ঞাত কারণবিশিষ্ট বিষয়সমূহের অস্তিত্বদাতা হিসেবে শনাক্ত করে থাকেন এবং ঐগুলোর প্রাকৃতিক কারণ আবিস্কৃত হওয়ার পর যদি তাদের বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়ে তবে এটাকে তাদের বিশ্বাসেরই দুর্বলতা বলে মনে করতে হবে, যা খোদার অস্তিত্বে বিশ্বাসের অবৈধতার প্রমাণ নয়। কারণ প্রকৃতপক্ষে জাগতিক বিভিন্ন ঘটনার ক্ষেত্রে খোদার কারণত্ব প্রাকৃতিক কারণের মত নয় ও তাদের সামান্তরিক কোন কারণও নয়। বরং এ কারণত্ব সকল কারণের ঊর্ধ্বে ও সমুদয় বস্তুগত এবং অবস্তুগত কারণের উলম্বে অবস্থান করে। সুতরাং প্রাকৃতিক কারণের শনাক্তকরণ বা না করণ, একে গ্রহণ বা বর্জনের ক্ষেত্রে কোন প্রকার প্রভাব ফেলে না।

মূলঃ আক্বা’য়েদ শিক্ষা, আয়াতুল্লাহ্‌ মুহাম্মদ তাকী মিসবাহ্‌ ইয়াযদী, পৃষ্ঠাঃ ৪২-৪৩।

Source: http://www.hussainidalan.com