জাকাত ও দান সংগ্রহের জন্য যাকেই নিয়োগ করতেন তাকে আমিরুল মোমেনিন এ নির্দেশ দিতেন।
আল্লাহকে ভয় করে চলো যিনি এক এবং তাঁর কোন অংশীদার নেই। কোন মুসলিমকে ভয় দেখিয়ো না। কোন মুসলিমের জমি উপেক্ষা করো না যাতে সে অসুখী হয়। তার নিকট থেকে তার সম্পত্তিতে আল্লাহর অংশের বেশি নিয়ো না। যখন তুমি কোন গোত্রের কাছে যাবে তখন তাদের ঘরে প্রবেশ করার আগে জলাধারের কাছে অবতরণ করো। তারপর মর্যাদা ও শান্তি সহকারে তাদের মাঝে যেয়ো । তারপর তাদেরকে সালাম করো এবং তাদের প্রতি শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করতে অবহেলা করো না। তারপর তাদেরকে বলো “হে আল্লাহর বান্দাগণ, আল্লাহর খলিফা ও রাসুলের ভাইসজেরেন্ট (Vicegerent) আমাকে তোমাদের কাছে প্রেরণ করেছেন তোমাদের কাছে থেকে তোমাদের সম্পদে আল্লাহর অংশ আদায় করতে। তোমাদের সম্পদে তার কোন অংশ আছে কি? যদি থাকে। তবে তা তার ভাইসজেরেন্টের নিকট দাও।” যদি তাদের মধ্যে কেউ ‘না’ বলে তবে দাবির পুনরাবৃত্তি করো না। যদি কেউ হাঁ” বোধক জবাব দেয়। তবে তার সঙ্গে যেয়ো কিন্তু তাকে কোন প্রকার ভয় দেখিয়ো না, কোন ধমক দিয়ে না, চাপ দিয়ো না এবং অত্যাচার করো না । সে স্বর্ণ বা রৌপ্য যা দেয় তা গ্ৰহণ করো। যদি তার গরু বা উট থেকে থাকে তবে তার অনুমতি ছাড়া তা স্পর্শ করো না; কারণ এ গুলোর বৃহদাংশ তার। সুতরাং যখন তুমি এগুলো দেখবে তখন এমন লোকের মতো সেগুলোর কাছে যেয়ো না, যার এদের ওপর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। অথবা ভদ্রতার সীমালজযন করে তার কাছে যেয়ো না। কোন পশুকে আতঙ্কিত করো না । কোন লোককে পরিহাস করো না এবং কাউকে দুঃখ দিয়ে না।
সম্পত্তিকে দুভাগ করো এবং মালিক যে ভাগ পছন্দ করে তা নিতে দিয়ে। সে যা পছন্দ করে, তাতে আপত্তি করো না। তারপর অবশিষ্ট অর্ধাংশ আবার দুভাগ করো এবং যে কোন ভাগ তাকে পছন্দ করে নিতে দিয়ো । তার পছন্দে কোন আপত্তি করো না। এভাবে ভাগ করতে থেকে যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহর পাওনা আদায়ের মতো অংশ থাকে। যদি সে কোন আপত্তি করে তবে তার মতো ব্যক্ত করতে দিয়ো । তারপর আলাদা করা দুটি অংশ আবার একত্রিত করে পূর্বের মতো ভাগ করতে থেকে যে পর্যন্ত না তার সম্পত্তি থেকে আল্লাহর পাওনা আদায় হয়। বৃদ্ধ, জরাজীর্ণ, অঙ্গহীন বা রুগ্ন পশু গ্ৰহণ করো না। মুসলিমের সম্পদের প্রতি যে যত্ব নেবে বলে তুমি বিশ্বাস কর তার কাছ ছাড়া অন্য কারো দায়িত্বে পশুগুলো রেখো না। এমন লোকের কাছে রাখবে যে বন্টনের জন্য নেতার কাছে সেগুলো পৌছাবে। হিতাকাঙ্খী, খোদাভীরু, বিশ্বস্ত ও সতর্ক লোক ছাড়া কারো কাছে এগুলো রেখো না। যারা মুসলিমের সম্পদ অপব্যয় করে না, দীর্ঘদিন ধরে রাখে না এবং তা রক্ষণে ক্লান্তি বা শ্রান্তি বোধ করে না তাদের কাছেই রেখো। তারপর যা সংগ্ৰহ কর তা আমাদের কাছে পাঠিয়ে দিয়ো। আমরা আল্লাহর নির্দেশানুযায়ী সেগুলোর ব্যবস্থা নেব। যখন তোমার কোন মনোনীত ব্যক্তি পশুর দায়িত্ব গ্রহণ করে তখন তাকে বলে দিয়ো যেন বাচ্চাগুলোকে মায়ের কাছ থেকে আলাদা না করে এবং সম্পূর্ণ দুধ যেন দোহন করে না নেয়। কারণ এতে বাচ্চাগুলো কষ্ট পাবে। সে যেন পশুগুলোকে বাহন হিসাবে ব্যবহার না করে। এ বিষয়ে সে যেন ন্যায়ভাবে কাজ করে। উটগুলোকে সে যেন বিশ্রাম দেয় এবং যেগুলোর খুর ঘষায় ঘষায় ক্ষয় হয়েছে সেগুলোকে যেন ধীরে ধীবে চালায়। যখন কোন জলাধারের পাশ দিয়ে যাবে তখন উটগুলোকে পানি খেতে দিয়ো এবং ঘাসের জমি বাদ দিয়ে ঘাসবিহীন পথে চলো না। সময়ে সময়ে উটগুলোকে বিশ্রাম নিতে দিয়ো এবং পানি ও ঘাসের কাছে অপেক্ষা করো। এভাবে যখন পশুগুলো আমাদের কাছে পৌছাবে তখন তারা খোদার ফজলে সুস্থ-সবল ও মোটা-তাজা অবস্থায় পৌছবে। আমরা তখন এগুলোকে আল্লাহর কিতাব ও রাসুলের সুন্নাহ অনুযায়ী বন্টন করবো। নিশ্চয়ই, এটা তোমার জন্য পরম পুরস্কার ও হেদায়েতের উপায় হবে, ইনশাল্লাহ।