আল্লাহর নেয়ামতের জন্য প্রশধ্বংসা
প্রতিষ্ঠিত প্রশধ্বংসা আল্লাহর যিনি দৃশ্যমান না হয়েও স্বীকৃত এবং যিনি কোন প্রকার পরিশ্রম ছাড়াই সৃষ্টি করেন। তিনি তাঁর কুদরতের সাহায্যে সৃষ্টিকে সৃষ্টিতে এনেছেন এবং তাঁর মর্যাদা ও মহত্ত্বের কারণে সকল শাসনকর্তার আনুগত্য লাভ করেন। তিনি তাঁর মহত্ত্বের মাধ্যমে সকল মহৎ মানুষের ওপর তাঁর শ্ৰেষ্ঠত্ব বজায় রাখেন। তিনি পৃথিবীকে তাঁর সৃষ্টি দ্বারা পরিপূর্ণ করেছেন এবং জিন ও ইনসানের প্রতি তাঁর পয়গম্বর প্রেরণ করেছেন যেন তাদের কাছে দুনিয়া উন্মোচন করা হয়, যেন দুনিয়ার ক্ষতি সম্বন্ধে বিচূতি তাদেরকে দেখিয়ে দেয়া হয় এবং সামগ্ৰীক বিষয়াবলী যেন তাদের শিক্ষার জন্য তাদের সামনে উপস্থাপন করা হয়, যেমন-স্বাস্থে্যুর পরিবর্তন ও রোগ-ব্যাধি, হালাল ও হারাম বিষয়াদি এবং অনুগত ও অবাধ্যের জন্য আল্লাহ যা নির্ধারিত করে রেখেছেন (বেহেশত ও দোযখ)। আমি তাঁর সত্তার সেরূপ প্ৰশধ্বংসা করি যেরূপ তিনি তাঁর বান্দার কাছে প্রত্যাশা করেন। তিনি সকল কিছুর জন্য একটা পরিমাপ নির্ধারিত করেছেন, প্রতিটি পরিমাপের জন্য একটা সময়সীমা এবং প্রতিটি সময়সীমার জন্য একটি দলিল নির্ধারণ করেছেন ।
পবিত্র কুরআনের মহত্ত্ব ও গুরুত্ব সম্পর্কে
পবিত্র কুরআন আদেশ দেয়। আবারু বিরতও থাকে; নীরব থাকে আবার কথাও বলে। বান্দার সম্মুখে তা আল্লাহর প্রমাণ। কুরআনের বিধান অনুযায়ী কাজ করার জন্য তিনি বান্দার অঙ্গীকার গ্রহণ করেছেন। তিনি কুরআনের দীপ্তিকে নিখুঁত করেছেন এবং তার মাধ্যমে তাঁর দ্বিনকে পূর্ণতা দান করেছেন। কুরআনের মাধ্যমে তাঁর হেদায়েতের আদেশাবলী মানুষের কাছে পৌছানোর পর তিনি রাসুলকে (সঃ) পৃথিবী ত্যাগ করতে দিয়েছেন। যেভাবে আল্লাহ নিজকে মহান হিসাবে অধিষ্ঠিত করেছেন সেভাবে তাকে মহান মনে করা তোমাদের উচিত। কারণ তিনি তার দ্বিনের কোন কিছুই তোমাদের কাছে গোপন করেন নি এবং তাঁর পছন্দ অপছন্দ সম্বন্ধে কোন কিছুই বাদ দেন নি। এগুলোকে হেদায়েতের সুস্পষ্ট প্রতীক ও নিদর্শন করে দিয়েছেন যাতে মানুষ তার দিকে এগিয়ে যেতে পারে অথবা বিরত থাকতে পারে। অনন্তকালের জন্য তার সন্তোষ একই রকম ।
মনে রেখো, তিনি যে সব বিষয়ে তোমাদের পূর্ববতীদের ওপর অসন্তুষ্ট ছিলেন সেসব বিষয়ে তোমাদের ওপর সন্তুষ্ট হবেন না এবং তোমাদের পূর্ববতীগণের ওপর যেসব বিষয়ে সন্তুষ্ট ছিলেন তোমাদের ওপর সে সব বিষয়ে অসন্তুষ্ট হবেন না। তোমরা সুস্পষ্ট পথের ওপর পদচারণা করছে এবং তোমাদের পূর্ববতীগণ যা বলতাে তাই বলছাে। এ পৃথিবীতে তোমাদের প্রয়োজন মিটানোর জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ থাকার জন্য তিনি তোমাদেরকে আদেশ করেছেন এবং মুখে তাঁর নামোল্লেখ করা তোমাদের জন্য বাধ্যতামূলক করেছেন।
তাকে ভয় করা অভ্যাসে পরিণত করার জন্য তিনি তোমাদেরকে উপদেশ দিয়েছেন। এ ভয়কে তিনি তাঁর সন্তোষের সর্বোচ্চ বিন্দু করে দিয়েছেন এবং বান্দার কাছে এটাই তিনি চান। সুতরাং তোমরা এমনভাবে আল্লাহকে ভয় করবে যেন তোমরা তার সম্মুখে রয়েছে এবং তোমাদের সম্মুখভাগের কেশগুচ্ছ তাঁর মুষ্টির মধ্যে ও তোমাদের অবস্থার পরিবর্তন তাঁর নিয়ন্ত্রণাধীন। যদি তোমরা কোন বিষয় গোপন কর, তিনি তা জ্ঞাত থাকবেন। যদি তোমরা কোন বিষয় প্রকাশ কর, তিনি তা রেকর্ড করবেন। এ কাজে তিনি সম্মানিত প্রহরী নিয়োগ করেছেন যারা কোন সঠিক বিষয় বাদ দেয় না এবং বেঠিক কিছু সংযোজ করে না। জেনে রাখো, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে তাকে বিপদ থেকে বেরিয়ে আসার পথ তিনি করে দেন এবং অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসার জন্য আলো মঞ্জর করেন। যে অবস্থায় থাকতে সে ইচ্ছা পোষণ করে তিনি তাকে সে অবস্থায় রাখবেন এবং তাঁর নৈকট্যে সম্মানিত অবস্থানে তাকে রাখবেন। এ অবস্থান হলো তার আরাশের ছায়া এবং তাঁর নূরের দু্যতির আলো। এ অবস্থানের দর্শনাথী হলো তার ফেরেশতাগণ এবং সাখী হলো পয়গম্বরগণ । সুতরাং প্রত্যাবর্তন স্থলের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাও এবং পরকালের রসদ সংগ্রহ করে মৃত্যুর দিকে অগ্রবর্তী হও । অকস্মাৎ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে এবং মৃত্যু তাদেরকে পরাভূত করবে, তখন তাদের তওবা করার দরজাও বন্ধ হয়ে যাবে। তোমরা এখনো এমন এক স্থানে আছো যেখানে তোমাদের পূর্ববতীগণ ছিল এবং তারা ফিরে আশার জন্য উদগ্র বাসনা পোষণ করছে। এ পৃথিবী তোমাদের আবাসস্থল নয়— এখানে তোমরা ভ্ৰাম্যমান পর্যটকের মতো। এস্থান ত্যাগ করার জন্য তোমাদেরকে ডাক দেয়া হয়েছে এবং এস্থানে থাকাকালে রসদ সংগ্ৰহ করার জন্য তোমাদেরকে আদেশ দেয়া হয়েছে। জেনে রাখো, তোমাদের এই পাতলা চামড়া আগুনের জ্বালা (জাহান্নামের) সহ্য করতে পারবে না। সুতরাং তোমরা নিজেদের প্রতি অনুকম্প কর, কারণ দুনিয়ার দুঃখ-দুৰ্দশায় তোমরা এর আভাস পেয়েছো । কোন লোকের পায়ে কাটা বিধিলে কিভাবে কাদে তা কি তোমরা দেখেছে? অথবা কেউ হোচট খেয়ে কেটে গিয়ে রক্ত বের হলে বা উত্তপ্ত বালিতে পুড়ে গেলে কী করে তা কি দেখেছে? তাহলে একবার ভেবে দেখ, জ্বলন্ত আগুনে উত্তপ্ত প্রস্তরের মাঝে শয়তানের সঙ্গী হিসাবে অবস্থাটা কেমন হবে? তোমরা কি জানো দোযখের প্রধান প্রহরী মালিক যখন আগুনের প্রতি রাগান্বিত হয়ে তাকে গালাগালি করতে থাকবে এবং তাতে আগুনের লেলিহান শিখা চারিদিকে পরিব্যাপ্ত হয়ে পড়বে তখন অবস্থাটা কী হবে? ওহে, তোমরা যারা বয়োঃ বৃদ্ধ এবং বাৰ্দ্ধক্য যাদেরকে শুভ্ৰকেশী করেছে, তোমরা একবার ভেবে দেখ, আগুনের বৃত্ত যখন তোমাদের ঘাড় ঘিরে ধরবে এবং তোমাদেরকে এমন শক্ত হাতকড়া লাগানো হবে যা তোমাদের বাহুর মাংশ খসিয়ে দেবে তখন তোমরা কী করবে? আল্লাহকে ভয় করা!! আল্লাহকে ভয় কর! হে জনমন্ডলী, রোগাক্রান্ত হবার আগেই সুস্থ থাকাকালে আল্লাহকে ভয় কর । বাৰ্দ্ধক্যের জরা দ্বারা পরাভূত হবার আগেই আল্লাহকে ভয় করা। তোমাদের ঘাড়ের রেহান তামাদি হয়ে দখল করে নেয়ার আগেই তা অবমুক্ত করার চেষ্টা করা। তোমাদের চোখ খোলা রাখো, তোমাদের পেটকে কৃশ করো (অর্থাৎ লোভ-লালসা কমাও), তোমাদের পা কাজে লাগাও, তোমাদের অর্থ ব্যয় করো (আল্লাহর পথে), তোমাদের দেহকে নিজের উপকারার্থে খরচ কর (অর্থাৎ ইবাদতে মশগুল হও এবং জিহাদে মনোনিবেশ কর) এবং এসব বিষয়ে কৃপণতা পরিহার করো। কারণ মহিমান্বিত আল্লাহ্ বলেছেনঃ …. যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য কর, আল্লাহ তোমাদেরকে সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পদসমূহ (অবস্থান)। সুদৃঢ় করবেন (কুরআন-৪৭ : ৭) কে আছে আল্লাহকে দেবে উত্তম ঋণ? যা তার জন্য তিনি বহুগুণ বৃদ্ধি করবেন এবং তার জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার (কুরআন-৫৭, ৪ ১১) / কোন দুর্বলতার কারণে তিনি তোমাদের কাছে সাহায্য চান নি এবং কোন অভাবের কারণে তিনি ঋণ চান নি। আকাশ ও পৃথিবীর সকল সৈনিক যার করতলগত এবং যিনি নিজেই সর্বশক্তিমান ও সর্বজ্ঞানী। তিনি তোমাদেব সাহায্য চান। সমগ্র বিশ্ব-ব্ৰহ্মান্ডের অধিকারী হয়েও তিনি তোমাদের কাছে ঋণ চান। তিনি হলেন গণি ও প্রতিষ্ঠিত প্ৰশধ্বংসার অধিকারী। তার এসব বাণীর অভিপ্ৰায় হলো তোমরা যেন আমলে সালেহায় প্রবৃত্ত হও । সুতরাং আমলে সালেহায় প্রবৃত্ত হতে তোমরা বিলম্ব করো না যাতে তাঁর বাসস্থানে তাঁর প্রতিবেশীদের সাথে তোমরা বাস করতে পার। এসব প্রতিবেশীকে তিনি তাঁর পয়গম্বরগণের সাথি করেছেন এবং ফেরেশতাগণ সেখানে তাদের দর্শনার্থী। তিনি তাদের কানকে সম্মানিত করেছেন যাতে দোযখের আগুনের শব্দ তাদের কাছে না পৌছায় এবং তাদের দেহকে তিনি ক্লান্তি ও অবসাদ হতে সুরক্ষিত করেছেন। মহিমান্বিত আল্লাহ বলেন ঃ তোমরা অগ্ৰণী হও তোমাদের রবের ক্ষমার প্রতি এবং সেই জানাত লাভের আশায় যা আকাশ ও পৃথিবীর মতো প্রশস্ত; এবং যা প্ৰস্তৃত করা হয়েছে আল্লাহ ও রাসুলগণে। বিশ্বাসীদের জন্য । এটা আল্লাহর অনুগ্রহ, যাকে ইচ্ছা তিনি তা দান করেন: আল্লাহ মহাঅনুগ্রহশীল (কুরআন’,.৫৭:২১) / তোমরা যা শুনতেছ। আমি তাই বলি। আমার ও তোমাদের জন্য আমি আল্লাহর সাহায্য প্রার্থনা করি। তিনিই আমার জন্য যথেষ্ট এবং তিনিই সর্বোত্তম কর্মবিধায়ক ।